সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ভেঙে তছনছ টেকনাফ অংশে মেরিন ড্রাইভ সড়ক

?????????????????????????????????????????????????????????

ভয়েস প্রতিবেদক, টেকনাফ:

এক পাশে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। আরেক পাশে সবুজে ঘেরা উঁচু-নিচু পাহাড়। এর মধ্য দিয়ে চলে গেছে ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক’। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে শুরু হয়ে শেষটা হয়েছে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে। সড়কটি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এরই মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে দৃষ্টিনন্দন এই সড়কে ধরেছে ভাঙন। ছোট-বড় ১০টি স্থানে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখনই মেরামত করা না হলে ব্যাপক ভাঙনে এই সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফের পশ্চিম মুন্ডার ডেইল এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার সড়ক সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে গেছে। এ ছাড়া গত দুই দিনে বাহারছড়া, হাদুরছড়া, দক্ষিণ মুন্ডার ডেইল এলাকায় সড়কের আরও ১০ স্থানে ভাঙন ধরেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সড়ক রক্ষাকবজ জিও ব্যাগ দুর্বল হয়ে গেছে। এরই মধ্যে সড়কটি গ্রাস করছে সমুদ্র। অনেকে সড়কের পাশ থেকে বয়ে যাওয়া সমুদ্র থেকে বালু নিয়ে জমি ভরাট করেছেন। এ কারণে পানি বাড়লে সড়কে ভাঙন দেখা যায়।

মুন্ডার ডেইল এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ‘এর আগে কখনও এভাবে ভাঙন ধরেনি মেরিন ড্রাইভ সড়কে। সাগরের ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বড় বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সড়কের পাশে। ঢেউয়ের তোড়ে জিও ব্যাগ সমুদ্রে চলে গেছে। ফলে ভাঙন অব্যাহত আছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘এখন বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি। সাগরের ঢেউয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন ধরেছে। তবে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী।’

সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ভাঙন ধরেছে বলে জানালেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) সেলিম। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে বলে জেনেছি।’

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সূত্র জানায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারের কলাতলী থেকে উখিয়ার ইনানী সৈকত পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে ইনানী থেকে টেকনাফের শীলখালী পর্যন্ত আরও ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে শীলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন আরও ৩২ কিলোমিটার সড়ক। পুরো সড়ক নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন হলেও নির্মাণকাজ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কোর। নয়নাভিরাম সড়কটি দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION