বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
আবদুল আজিজ:
টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশ চেকপোস্টে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও তদন্ত শুরু করেনি তদন্ত কমিটি। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাং শাজাহান আলী।
মোহাং শাজাহান আলী জানিয়েছেন, ‘কোন ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করতে সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের কাজ শুরু করেনি আমরা। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব। কাজ শেষে আমরা আমাদের মতো করে উক্ত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিব’।
গত ১ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারি সচিব শাহে এলিদ মাইনুল আমিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুরের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাং শাজাহান আলীকে আহবায়ক, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোছাইন ও রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র একজন উপযুক্ত প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উক্ত আদেশে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফ শামলাপুরের পুলিশ চেকপোষ্টে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো: রাশেদ নিহতের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস ও ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে স্পষ্ট মতামত ও প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, শামলাপুরের উক্ত ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন জানান, ‘অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো: রাশেদ একটি ইফটিউব চ্যানেলের স্যুটিং করার জন্য তার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাথাভাঙ্গা এলাকার পাহাড়ে যায়। স্যুটিং করার এক পর্যায়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলে পাহাড়ে লাইটের আলো দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মাঝে ডাকাত ভীতি বিরাজ করে। এসময় এলাকার মানুষের অবস্থা বুঝতে পেরে পাহাড় থেকে নেমে এসে মেজর সিনহা মো: রাশেদ তার পরিচয়পত্র এবং পিস্তল দেখিয়ে সামরিক বাহিনীর লোক পরিচয় দেয় এবং পরে মেরিন ড্রাইভে অবস্থানরত গাড়ীতে করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এক পর্যায়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশের চেকপোস্টে পৌছলে মেজর সিনহাকে তল্লাশীর সময় তর্কে জড়িয়ে পড়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত। এসময় হঠাৎ গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে যায় এবং মেজর সিনহাকে মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায়।’
মৌলভী আজিজ উদ্দিন আরো বলেন, ‘২ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এবং রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন থেকে পৃথক দুটি তদন্তটিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় আমার এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জবাববন্দি গ্রহন করে চলে গেছেন। জবানবন্দিতেও আমি একই কথা বলেছি’।
এদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনার জেরে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যদের ইতিমধ্যে কক্সবাজার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রে নতুন করে আরো ১৬ পুলিশ সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ভয়েস/আআ