বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
টেকনাফের শামলাপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো: রাশেদ নিহতের ঘটনায় টেকনাফ থানা ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯জনকে আসামী করে কক্সবাজার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে এজাহার হিসাবে নথিভূক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে মামলাটি র্যাবকে তদন্ত করারও আদেশ দেয়া হয়েছে।
মামলায় আসামী করা হয়েছে টেকনাফ বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল, কনষ্টেবল মো: মোস্তফা। এরা সকলেই টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ওইদিন রাতে কর্মরত ছিলেন।
বাদি পক্ষের আইনজীবি মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে টেকনাফ থানাকে গ্রহণের নির্দেশ। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের র্যাবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘৩১জুলাই রাতে একটি ইফটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও চিত্র ধারণ শেষে রাত আনুমানিক সাড়ে টার দিকে মেজর (অব:) সিনহা মো: রাশেদ খান নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পৌছলে ১নং আসামী লিয়াকত ও ৩নং আসামী এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত গাড়ি গতিরোধ করে মেজর সিনহা পরিচয় দেয়। এরপরও সিনহার সঙ্গে থাকা ক্যামরাম্যান সিফাতকে টানা হেচড়া করে গাড়ী থেকে নামিয়ে ফেলে। এসময় সিফাত দুই হাত উচু করে গাড়ী বসে থাকা সিনহার পরিচয় দেয়। পরিচয় দেয়ার পরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তোর মত অনেক মেজর দেখেছি বলে সিনহাকেও গাড়ী থেকে নামিয়ে ফেলে। মুহুর্তে কয়েক রাউন্ড গুলি করলে সিনহা মাটিতে পড়ে যায়। এসময় মেজর সিনহা জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পুলিশ সদস্যরা তাকে চেপে ধরে পুনরায় মাটিতে ফেলে দেয়। এসময় মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ১নং আসামী এসআই লিয়াকত আরও এক রাউন্ড গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে টেকনাফ থানা পুলিশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। পওে আসামী এস আই লিয়াকত মৃত্যু ধাপাচাপা দেয়ার জন্য ইয়াবা, গাজা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদি শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘ ওসি প্রদীপের নির্দেশনা মতে এসআই লিয়াকত ঠান্ডা মাথায় গুলি করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। পরে আমার ভাইয়ের শরীরে ও মুখে বিভিন্ন জায়গায় পা দিয়ে লাথি মেরে মুখ বিকৃত করার চেষ্টা করে। এসময় অন্যান্য আসামীরা তাদের সহযোগিতা করে। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি চাই আমার ভাই রাশেদের হত্যাকারিরা আইনের আওতায় আসুক এবং দোষিদের শাস্তি কামনা করছি।
ভয়েস/আআ