বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
কুতুবদিয়া লবণ মাঠের ছবি সাম্প্রতিক তোলা।ফাইল ছবি নাছির উদ্দীন, কুতুবদিয়া :
কুতুবদিয়ায় গত ১৮ মে লবণ উৎপাদনের ২০১৯-২০২০ মৌসুম শেষ হয়েছে। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। যা গত মৌসুমের চেয়ে ৫০ হাজার মেট্রিক টন কম। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জের ধরে দাম কমতির দিকে থাকায় মৌসুম শেষো আগেই অনেক লবণ চাষী লোকসানের মুখে লবণ চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে এবার আগাম বর্ষায় লবণের প্রস্তুত মাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে মৌসুম শেষ হলেও লবণ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে রয়েছেন দ্বীপের চাষীরা। ফলে আগামী দিনগুলোয় দেশে লবণের দাম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কুতুবদিয়ার লবণ চাষীরা।
স্থানীয় লবণচাষীরা জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কয়েক বছরের ব্যবধানে লবণের দাম কমলেও মে মাসের শেষ দিকে মাঠ থেকে উঠে যান অনেক চাষী। দাম বৃদ্ধির আশায় অনেকে খোলা মাঠে লবণ মজুদ করলেও বর্ষা মৌসুমে চলে আসায় মাটির নিচে লবণ রাখার সময় চলে এসেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি লবণ মজুদের ক্ষেত্রে বিঘা প্রতি উৎপাদিত লবণে অন্তত ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আগে কম দামে লবণ বিক্রি করায় লোকসানে থাকা চাষীদের কাছে এখন আর নগদ অর্থ নেই। একই সঙ্গে দাম কমে যাওয়ায় বাকিতে বিক্রি করা লবণের দাম তুলতে না পারায় চাইলেও দীর্ঘমেয়াদি পণ্যটি মজুদ করতে পারছেন না কুতুবদিয়ার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লবণ চাষী।
চাষীদের তথ্য অনুযায়ী, শীতকাল থেকে তারা লবণ চাষ শুরু করেন। বৃষ্টি শুরু হলে চাষ বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষার এই সময়ে সবাই লবণ বিক্রি শেষ করবেন। কিন্তু এমন সময় হঠাৎ লবণের দাম কমে গেছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সমস্যাটি ছাড়াও জমতে শুরু করেছে শ্রমিকদের মজুরীও।
এব্যাপারে উপজেলা বিসিক কর্মকর্তা জাকের হোছাইন জানান, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কয়েক সপ্তাহে আগে একদফা বেড়েছে মণপ্রতি (৪০ কেজি) বিসিকের হিসাবে গড় দাম হচ্ছে ১৫০ টাকা। চলমান নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার নিষেধাজ্ঞা কারণে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়া, যানবাহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং কারখানা থেকে লবণের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামে অস্বাভাবিক পতন হয়েছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাপারীরা লবণ কিনলে ও চাষীদের নগদ টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে সংকটে পড়েছে পুরো কুতুবদিয়ার লবণ শিল্প।
ভয়েস জেইউ।