মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
আরাফাত চৌধুরী:
উখিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২ লাখ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। তবে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই মাদক কারবারি সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উখিয়া থানাধীন ৫ নম্বর পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী বাজার সংলগ্ন তেলের পাম্পের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছেন, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাত্রীকালীন বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সিএনজিযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কক্সবাজারের দিকে পাচার করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ থাইংখালী বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে পালংখালী বাজারের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন সিএনজিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক তা অমান্য করে দ্রুত উখিয়ার দিকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সরকারি পিকআপে সিএনজিটিকে ধাওয়া করলে উখিয়া থানাধীন মরাগাছতলা রোহিঙ্গা মার্কেটের সামনে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সিএনজিতে থাকা দুই ব্যক্তি একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘেরাও করে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বস্তাটি তল্লাশি করে। এতে ২০টি কার্ডে মোট ১ হাজারটি বায়ুরোধক জিপার পলিপ্যাক পাওয়া যায়। প্রতিটি পলিপ্যাকে ২০০ পিস করে মোট ২ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আতিকুর রহমান জানিয়েছেন- ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছেন। এসময় কক্সবাজার মুখী একটি সিএনজি তল্লাশী করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে এসব ইয়াবা জব্দ করা হয়।
ওসি আতিকুর রহমান আরো জানান- ‘জব্দকৃত জিপার পলিপ্যাক ও রাবার বাদ দিয়ে ইয়াবার মোট ওজন ১৬ কেজি। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এ ঘটনায় পলাতক অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ)/৪১ ধারায় উখিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।পলাতক আসামিদের পরিচয় শনাক্ত, ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি চিহ্নিত এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও মজুদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভয়েস/আআ