বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
নিহত মনোয়ার কায়সার ছিদ্দীকি রুবেল। ভয়েস প্রতিবেদক, মহেশখালী:
মনোয়ার কায়সার ছিদ্দিকী রুবেল মার্ডারের খুনিদের একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশি। নিরাপত্তাহীনতায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জানালেন নিহতের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ছিদ্দিকী। তিনি আক্ষেপ করে জানান, এতদিন হয়ে গেল খুনিদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অপচেষ্টা করে যাচ্ছে খুনিরা। খুনিদের ভয়ে আমরা জাগিরা ঘোনা এলাকায় থাকতে পারিনা, আছি কালারমারছড়ার বাসায়। অপরদিকে স্কুলের মাস্টার সোহেল থাকে খুনিদের ভয়ে মহেশখালী উপজেলার ডরমেটরীতে। অপর ছেলে তাদের ভয়ে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে বড় ছেলেকে হারিয়েও শান্তিতে থাকতে পারছেন না জানিয়ে তিনি যত দ্রুত সম্ভব খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে।
জানাযায়, মহেশখালীতে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা পুত্র মনোয়ার কায়সার ছিদ্দিকী রুবেল হত্যা মামলার আসামীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও মামলার আলোচিত কোন আসামীই গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ভূমিকা পালন করছেনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদিকে ঘটনার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ছিদ্দিকী আসামীদের হুমকির মুখে পুরো পরিবার নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছে বলে জানান।
জানা যায়, গত ২৪ জুন সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার পূর্ব জাগিরাঘোনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সিরাজ, আলম পাশা, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম, আবু বক্কর, রাশেদ সহ ১৫/১৬ জনের সংঘবদ্ধ সসস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাড়ীতে ঢুকে কুপিয়ে মনোয়ার ছিদ্দিকী রুবেলকে মারাত্মক ভাবে আহত করে। পরের দিন ২৫ জুন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবেল মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ সরওয়ার কায়সার সোহেল বাদী হয়ে গত ২৭ জুন ১৬ জনকে আসামী করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-১৮, জিআর-১১২/২০।
মামলার বাদী সোহেল জানান, ঘটনার পর থেকে মামলা তুলে নিতে আসামীরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগায় পরিবার নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছে। ভাই হত্যার দুই মাস পার হলেও কোন আসামীই গ্রেপ্তার করেনি থানা পুলিশ। এদিকে বার বার মামলা তুলে নিতে হুমকি দিতে থাকে আসামীরা। গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় আসামীরা বাড়ীর সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় মারপিট করে খুন জখম করবে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে বলে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ৬ জুলাই মহেশখালী থানায় সাধারণ ডায়রী দায়ের করেন তিনি। যার ডাইরী নং- ২৪৪।
নিহতের পিতা আবু জাফর ছিদ্দিকী ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এই দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে আমার ছেলেকে হারিয়েছি। এই ঘটনার দুই মাস পরেও মামলার কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। উল্টো সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
এদিকে এই ঘটনায় আলোচিত কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর কোন ভূমিকা রাখেনি বলেও দাবী করেন তারা। এসময় দুলা মিয়া, রোকন উদ্দীন, ফরিদ আলম সহ একাধিক এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মানুষ হত্যার মত ঘৃন্যতম ঘটনার পরেও আসামীরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর ভূক্তভোগী পরিবার অন্যত্র বসবাস করছে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা আরো বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা আছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আরো তৎপর ভূমিকা থাকা দরকার বলে মনে করেন তারা।
এই বিষয়ে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস জানান, আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।
ভয়েস/জেইউ।