বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
টাইব্রেকারে চকরিয়াকে হারিয়ে আন্তঃউপজেলা গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন রামু শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ, কে জিতবে শিরোপা দেব-শুভশ্রী এক যুগ পর পর্দায় আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের প্রশান্তি হিজড়া ‘গুরুমাকে’ হত্যা করে আরেক নেত্রীর ঘরে আশ্রয়, জানালেন খুনের কারণ উখিয়া থানা ৪ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ: পুরস্কার নিচ্ছেন ওসি আতিকুর রহমান উখিয়ায় ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের অগ্রাধিকার এখন আর চলচ্চিত্র নয় কেন? আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ারের ৬টি স্মরণীয় ঘটনা আগে গোল দিয়েও মালয়েশিয়াকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশের মেয়েরা

পিএমখালীতে গভীররাতে কালভার্টের ঢালাই, ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ

ভয়েস প্রতিবেদক:

দীর্ঘদিন অবহেলার পর গভীর রাতে কালভার্ট ঢালাই দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসাদ এন্টারপ্রাইজ। ঘটনাটি ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে। এনিয়ে এলাকায় ও সচেতন মহলে কাজের গুণগতমান নিয়ে সন্দেহ, প্রশ্ন উঠেছে। ঝড় নাই বৃষ্টি নাই কি কারণে গভীর রাতে পিএমখালীর ছনখোলা সংযোগ সড়কের এই ব্রীজের কাজ করতে হল?

স্থানীয়রা জানান, সচেতন মহলের জিজ্ঞাসুমন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির আশ্রয় নিতে এই অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছে। অভিযোগ উঠেছে চরম দুর্নীতির আশ্রয় নিতেই নিশি রাতে সামান্য দুটি বক্স কালভার্টের ঢালাইয়ের কাজ করছে ঠিকাদার। অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার মানুষের, রাতে কাজ করলেও বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি দিয়ে কালভার্টের ঢালাই কাজ করার সময় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তার প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদারের লোকজন কর্ণপাত না করে কাজ শেষ করেছে।

এ ব্যাপারে ছনখোলার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, “কালভার্টের ঢালাই কাজে যে বালিগুলো ব্যবহার হচ্ছে তা মানের দিক থেকে নিম্নমানের। এলাকার যে কোন ছড়া বা খাল হতে উত্তোলন করা বালি ব্যবহৃত বালুর চেয়ে খারাপ মনে হয়েছে। কালভার্টে যে বালি ব্যবহার করেছে তা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের মাটির মতই। বলতে গেলে এগুলো বালির মধ্যে পড়ে না। এখানে ব্যবহার করা বালির মধ্যে থেকে আমরা কয়েকজন এক/দেড় কেজির মতো বালি নিয়ে পানির সাথে গুলানোর পর দেখলাম সেই পানিতে বালির কোন অস্তিত্ব নেই সব কাঁদায় পরিণত হয়ে গেছে।এই মাটিবালি দিয়ে রাস্তার কালভার্টের কাজ করা হচ্ছে।এ রাস্তা নির্মাণ হওয়ার পর ভারি যানবাহন চলাচল করলে এই মূল্যবান রাস্তাটি কতদিন ঠিকবে তা নিয়ে সন্দেহ,সংশয়ের মধ্যে এলাকাবাসী।”

এই সংযোগ সড়ক (পিএমখালী টু কুলিয়া পাড়া হয়ে কক্সবাজার) পাকা করণের জন্য পিএমখালী ইউনিয়নর ও পার্শ্ববর্তী খুরুশকুল ইউনিয়নের একাংশের (দক্ষিণ-পূর্ব) মানুষ কয়েক যুগ ধরে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে রাস্তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে পারে।

গভীর রাতে কাজের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কক্স এমডি হাশেম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিম পাড়া এলাকায় খুরুশকুল ও ছনখোলা যাতায়াতের একমাত্র রাস্তায় নির্মিত একটি কালভার্টে এভাবে দুর্নীতি করে শুধুমাত্র কংকর বিহীন ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। যারা এসমস্ত কাজের সাথে সহযোগিতায় রয়েছে, তারা আসলে ছনখোলাবাসীদের দুর্ভোগ শেষ হতে দিচ্ছে না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে যাচাই বাছাই করার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

শাহাবুদ্দিন নামে অন্যজন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, কালভার্ট নির্মানে ব্যাপক অনিয়মঃ পি.এম.খালী ইউনিয়ন এ ছনখোলা পশ্চিম পাড়া ঘাটঘর বাজার থেকে কক্সবাজার যাতায়াতের এক মাত্র রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ হলেও নির্মানের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা তাতে বাঁধা দিলে ঠিকাদার কোনো মতেই কোনো কথা শুনতেছেনা।

সরজিমন গিয়ে যেসব অনিয়ম পরীলক্ষিত হয়, কাজের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশল অফিসের চেক ছাড়া রাতের বেলায় ঢালায়, ২নং বালু ব্যবহার, বাইব্রেটার ব্যবহার হচ্ছে না, সিলেটি বালি ব্যবহার করছে না।

কথা হয় এলাকার মানুষের সাথে তাদের অভিযোগ, স্থানীয় আবু সৈয়দ জসিম উদ্দিন, আবসার কামাল, মো: রুহুল আমিন, মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, মো: মিরাজ হোসেনসহ অনেকে জানান, চান্দেরপারা রাবার ড্রাম থেকে ছনখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত ৩৩০০ ফুট রাস্তা পাকা করনের কাজ চলিত বছরের শুরুতে টেন্ডারের মাধ্যমে পান মেসার্স আসাদ এন্টারপ্রাইজ। আবার একই সাথে এই রাস্তার মধ্যে ২টি কালভার্ট নির্মাণের কাজও তারা শুরু করে সিসি ঢালাইয়ের পর প্রায় ৫/৬ মাসের মতো কাজ বন্ধ রেখে চলে যায়। আবার গতকাল থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আধারে ঠিকাদারের ইচ্ছে মতো নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।এসব চলমান রাস্তায় কাজ করার আগে বিকল্প রাস্তা ব্যবস্থা করার নিয়ম থাকলেও তা না করে কালভার্ট নির্মাণ কাজ করেন। ভালো বালির পরিবর্তে পাহাড়ের দু’নম্বর মাটির বালি দিয়েই ঢালাই কাজ চালিয়ে যায়।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, গভীর রাতে ঢালাইয়ের বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অবগত করেনি। অনিয়মের বিষয় জানার পর চিঠি দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজকে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ প্রদানসহ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এব্যাপারে মেসার্স আসাদ এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটার মোঃ আসাদ এর কাছে জানার জন্য অনেকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানাযায়নি।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION