শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
৮ বছর বয়সে ‘বিজ্ঞানী’ খেতাব পাওয়া সুবর্ণ আইজ্যাক বারী ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
মাত্র সাড়ে ৮ বছর বয়সে ‘বিজ্ঞানী’ খেতাব পাওয়া সুবর্ণ আইজ্যাক বারী নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নরের কাছ থেকে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছে। সুবর্ণ এই জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বালক ও খুদে বিজ্ঞানী। গত ১৭ অক্টোবর তাকে রাজ্যের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ভাষার ওয়েব পোর্টাল কালার্সলাইফ মঙ্গলবার এ কথা জানায়।
জানা যায়, সুবর্ণের বাবা রাশীদুল বারী তার বাবা ডা. মোহাম্মদউদ্দিনকে নিয়ে সিটির ব্রোনব্রিজের সেইফ মেডিকেলে অপেক্ষা করছিলেন। চিকিৎসক তার বাবার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার সময় দিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই বারী তার স্ত্রীর ফোন পেলেন। সুবর্ণের মা ফোনের ওপার থেকে কাঁদছিলেন। রাশীদুল বারী ভেবেছিলেন খারাপ কিছু ঘটেছে।
সুবর্ণের মা বললেন, একটি সুসংবাদের কারণে তিনি কাঁদছেন। তিনি জানালেন, ‘কিছুক্ষণ আগে নিউইয়র্কের স্টেট গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো তার ডেলিগেট আমাদের বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন। তারা সুবর্ণকে গভর্নরের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তারা স্টেট গভর্নরের স্বীকৃতিপত্র সুবর্ণের কাছে হস্তান্তর করেছেন।’
স্বীকৃতিপত্রে গভর্নর লিখেছেন, ‘সুবর্ণ আইজ্যাক বারী, গণিত এবং বিজ্ঞানের প্রতি আপনার আবেগের মাধ্যমে টেররিজমমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার জন্য আপনি বিশাল অবদান রেখেছেন। এম্পায়ার স্টেট অন্যকে সাহায্য করার জন্য উৎসর্গকৃত মহান মানুষদের স্বীকৃতি দেয়। আপনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি খুব অল্প বয়সেই বিশ্বে ইতিবাচক পার্থক্য তৈরি করেছেন, গণিত এবং পদার্থের বিজ্ঞানের মাধ্যমে, সন্ত্রাসবিরোধী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে, বইয়ের মাধ্যমে! আপনি বিশ্বজুড়ে চাইল্ড প্রডিজি হিসেবে পরিচিত। গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানে আপনার অর্জন প্রশংসার যোগ্য। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্বের বর্তমান ঘটনা সম্পর্কে আপনার বিস্ময়কর সচেতনতা এবং বিশ্বশান্তি প্রচারের জন্য সেই সচেতনতা ব্যবহার করার ইচ্ছা আমাকে মুগ্ধ করে। আপনার ভ্রাতৃত্ব, প্রজ্ঞা এবং সহানুভূতির মধ্য দিয়ে আপনি নিজেকে গভীর চরিত্র এবং মূল্যবোধের সিঁড়ি হিসেবে আলাদা করেছেন এবং আপনার কাজের জন্য নিউইয়র্কের পক্ষে আপনাকে সম্মানিত করতে পেরে আমি গর্বিত। আবারও সব নিউইয়র্কারের পক্ষ থেকে আমি আপনার প্রশংসা করছি, কারণ ‘দ্য লাভ’ বইয়ের মাধ্যমে আপনি সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি এবং সহনশীলতা জাগানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি এনে দিয়েছেন। অভিনন্দন এবং অব্যাহত সাফল্য ও সুখের জন্য শুভকামনা।’
নিউইয়র্কের একটি বাঙালি পরিবারে সুবর্ণের জন্ম ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল। খুব অল্প বয়সেই বিশ্বে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে পিএইচডি স্তরের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হওয়ার জন্য। তিনি ২০১৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিজ্ঞানী হিসেবে। নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী তাকে দিল্লিতে ‘গ্লোবাল চাইল্ড প্রডিজি অ্যাওয়ার্ড’ দেন, তাও বিজ্ঞানী হিসেবে।
মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে। সবচেয়ে বড় কথা ২০১৪ সালে নিউইয়র্ক সিটি কলেজের প্রেসিডেন্ট ড. লিসা কোইকো সুবর্ণকে ‘আমাদের সময়ের আইনস্টাইন’ উপাধি দেন। সূত্র:প্রতিদিনের সংবাদ।
ভয়েস/জেইউ।