বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। জাতির পিতা আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বলেছেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু যদি বাংলাদেশ কখনো বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয় তাকে মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বানৌজা ওমর ফারুক, আবু উবাইদাহ, প্রত্যাশা, দর্শক এবং তল্লাশী-এর কমিশনিং দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের নেভাল বার্থ-১’ যুক্ত হন।
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নৌবহরে সংযোজিত হলো নতুন দুইটি আধুনিক ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক, আবু উবাইদাহ ও একটি করভেট যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাশা এবং দুইটি জরিপ জাহাজ বানৌজা দর্শক ও তল্লাশী। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধজাহাজসমূহ নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করলো। এর আগে চট্টগ্রামে বানৌজা ঈসাখান নৌ জেটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল জাহাজসমূহের অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের একে তো নদীমাতৃক দেশ, অপরদিকে এই বিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষা করা এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। জাতির পিতার নিজেরই স্বপ্ন ছিল এবং পাকিস্তান আমলেও তিনি যখন ছয় দফা দাবি পেশ করেছিলেন সেই দাবিতেও নৌবাহিনীর ঘাটি এই ভূখণ্ডে হবে এটাও তার দাবি ছিল।
স্বাধীনতার পর জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধস্ত দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের যে অধিকার আছে, এই অধিকারের ব্যাপারেও কিন্তু তিনি প্রথম সমুদ্রসীমা আইন করেন ১৯৭৪ সালে। এমনকি জাতিসংঘেও তখন সমুদ্রসীমা আইন হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা দেখেছি, তিনি ৭৪ সালেই এই আইনটা করে দিয়ে যান। যার ফলে ১৯৭৫’র পর ২১ বছর পার হয়ে যায়, জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কিন্তু এইসব ব্যাপারে চিন্তাও করেনি, কোন উদ্যোগও গ্রহণ করেনি। সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের যে অধিকার; সেই অধিকারটা যে রাখতে হবে, রক্ষা করতে হবে। সেরকম ব্যবস্থা কেউ নেয়নি। আওয়ামী লীগ একমাত্র যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকেই এই বিষয়টার উপর আমরা কাজ শুরু করি।
১৯৯৬ সালের পর পরবর্তীতে দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করার পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে সমুদ্রসীমা অর্জন করার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি যে আমাদের এই সমুদ্রসীমা শুধু রক্ষা করা না, সমুদ্র সম্পদটাও যেন আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে আমরা অর্জন করতে পারি। তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে আমরা ব্লু-ইকোনমি ধারণা নিয়েছি এবং তার উপর কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে হবে; এই সমুদ্রের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। যে সমস্ত সমুদ্র সম্পদ আমাদের রয়েছে, সেই সম্পদ আহরণ করা এবং সেইগুলোকে কাজে লাগানো; এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং তার যে স্বপ্ন ছিল সেকথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পরিবারের সদস্য হিসেবে বা তার প্রথম সন্তান হিসেবে তার আলোচনার মধ্য দিয়ে যা জানতে পেরেছি শিখতে পেরেছি সেই আলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই এবং নৌবাহিনীকে আধুনিক দক্ষ শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য, বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ, যুদ্ধ জাহাজের অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেই। শুধু নৌবাহিনী বলে না, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তিনি যে আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিমালা করে দিয়ে গেছেন ১৯৭৪ সালে তার আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে সেটা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। সেদিক থেকেই লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নৌবাহিনীতে বর্তমান প্রজন্মের উন্নত সাবমেরিন, আমেরিকান পেট্রোল এয়ারক্রাফট , যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত বাহিনী সংযোজন করেছি এবং এর মাধ্যমে একবিংশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।
‘আমরা এটাই চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজকে আমরা যে জাহাজগুলো কমিশনিং করলাম সেগুলো আমাদের নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালি করবে। দক্ষ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
নৌবাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী তার ক্রমাগত অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দিনটি শুধু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নয়। সমগ্র দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
১৯৯৬ সালে সরকারে এসে খুলনা শিপইয়ার্ড নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে উন্নত করার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর ক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাছাড়া নিজস্ব ইয়ার্ডে জাহাজ তৈরির সক্ষমতা এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে বলীয়ান করে। আমরা হয়ত ভবিষ্যতে অন্য দেশের জন্য জাহাজ তৈরি করতে পারবো। ধীরে ধীরে আমাদের সেই সক্ষমতা আমরা অর্জন করবো।
আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত নৌপথে থেকে অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সমুদ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করে যাচ্ছে। এটা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে এবং এটা সব সময় প্রশংসা করি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সকলকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থেকে সুরক্ষা পেতে এখন থেকেই সচেতন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি প্রতিপালন করে চলাফেরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সূত্র:বাতা২৪।
ভয়েস/জেইউ।