বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

দেশে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৩ একর জমি বেদখল-টিআইবি

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

পুরনো বন আইন, সনাতন পদ্ধতিতে বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাসহ কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহির অভাবে বন অধিদপ্তরে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে বলে উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায়।

টিআইবি বলছে, প্রতিষ্ঠানটির তদারকির ব্যর্থতায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৩ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। এসব সমস্যা উত্তরণে ১৫ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

বুধবার ‘বন অধিদপ্তর : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।

এতে বলা হয়েছে, বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের একাংশের ড়্গেত্রে বিধিবহির্ভ‚ত অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রধান বন সংরক্ষকদের একাংশসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ, পদায়ন ও বদলির ড়্গেত্রে পদভেদে ৫০ হাজার থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বিধিবহিভূ©ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্তি ও প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের প্লট প্রাপ্তিতে ড়্গেত্রবিশেষে ৩-৫ হাজার টাকা, নথিপত্রে স্থানীয় ভূমিহীনদের না দেখিয়ে বাস্তবে প্রভাবশালীদের প্লট বরাদ্দে ৫০-৬০ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট বনকর্মী কর্তৃক আদায় করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারিত না হওয়া এবং এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বন অধিদপ্তরের সব স্তরের কার্যালয়ের কর্মকাণ্ডে কার্যকর তদারকি, পরিবীক্ষণ, জবাবদিহি ও ফরেস্ট্রি পারফরম্যান্স অডিটর অনুপস্থিতিতে বন অধিদপ্তরকেন্দ্রিক দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে। এছাড়া ৯৩ বছরের পুরনো বন আইন, ১৯২৭-এর কার্যকর প্রয়োগে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও আমূল সংস্কারের জন্য কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

বন অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ডে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ ও অন্তভু©ক্তিমূলক নয়। সামাজিক বনায়ন প্রকল্পে সুবিধাভোগী হিসেবে বননির্ভর আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে বিধিবহিভূ©তভাবে প্রভাবশালীদের সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি বন সুরক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্ব হলেও তা পালনে প্রতিষ্ঠানটির সুস্পষ্ট ব্যর্থতা ও বিচ্যুতির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকারক হবে বলে চিঠি মারফতে উল্লেখ করলেও পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের পর বন অধিদপ্তর ওই প্রকল্পের আর বিরোধিতা করেনি।
তাছাড়া বন্যহাতিসহ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানসমূহের (যেমন ডzলাহাজরা ও মেধাকচ্ছপিয়া) মধ্য দিয়ে দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে অধিদপ্তরের সম্মতিজ্ঞাপন সংস্থাটির ওপর অর্পিত ক্ষমতা ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়েছে। অধিকাংশ ড়্গেত্রে বন অধিদপ্তর কর্তৃক শুধু লিখিতভাবে আপত্তি জানানোতেই সীমাবদ্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত বনভূমির প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ২৪০ একর জমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ করে নিয়ে গেছে।

গবেষণায় বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৩ একর বনভূমি জবরদখল করা হলেও অধিদপ্তর কর্তৃক সর্বশেষ পাঁচ বছরে মাত্র ৮ হাজার ৭৯২ একর (৩%) জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারের পরিমাণ কম হওয়ার পেছনে বন অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এ ড়্গেত্রে বনভূমির জমির দলিল ও নথিপত্র অধিদপ্তরের কাছে চ‚ড়ান্ত অবস্থায় না থাকা ও যথোপযুক্ত উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

গবেষণার প্রাপ্ত তথ্যমতে, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে বনকর্মীদের নিজ জেলায় বদলি ও পদায়ন করা হয়। স্থানীয় ভূমি অফিস, সেটেলমেন্ট ও সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মী ও বনকর্মীদের একাংশের যোগসাজশে ভুয়া দলিল ও নথি তৈরি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে মাঠপর্যায়ে নগদ অর্থ বণ্টনকালে ডিএফও, রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাদের একাংশ কর্তৃক ড়্গেত্রবিশেষে প্রায় ৬১ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION