বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
নুরুল আলম সাঈদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:
বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণে
অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে । ভোক্তভোগী শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের অভিযোগে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান ( সিল্প) , ক্ষুদ্র মেরামত ও রুটিন জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দ পাওয়া প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত হারে টাকা কর্তনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এতে
সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুদ্ধ হলেও চাকুরীর খাতিরে নিরব ভূমিকা পালন করছেন।
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫৬টি স্কুলের প্রত্যেকটিতে শিক্ষার্থী অনুসারে সিল্প বরাদ্দ থেকে (৫০-৭০ হাজার) টাকা
বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ৩৪টি স্কুল (দুটি বাদে) রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে এবং ১৯টি স্কুলকে ক্ষুদ্র মেরামত খাতে
২ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক স্কুলের এসব বরাদ্দ থেকে ১২ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর কর্তন করার কথা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকারী নিয়মানুযায়ী ১২ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করার পরও উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক স্টাফ এর মাধ্যমে তিন ক্যাটাগরিতে ‘অবৈধ লেনদেন’ এর অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে ট্রেজারি অফিসকে ম্যানেজের অজুহাতে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত খাত থেকে ২০হাজার টাকা, রুটিন মেরামত খাতে ৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং সিল্প খাতের বরাদ্দ থেকে ৫-৭ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ কর্তন করা হয়েছে।
এছাড়া ক্ষুদ্র মেরামত খাতের বরাদ্দে উপজেলা প্রাথমিক অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার আক্তার উদ্দিন কর্তৃক বাড়তি সুযোগ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অফিস ম্যানেজের পর ক্ষুদ্র মেরামত ও সিল্প প্রকল্পের কাজ সম্পাদনেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে তোলা হয়েছে বরাদ্দকৃত অর্থ। এই ক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিস ছিল নমনীয়।
ভোক্তভোগী একাধিক প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৬০০ থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তিন ক্যাটাগরীতে টাকা দিতে হয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে। এছাড়া মনিটরিং এর দায়িত প্রাপ্ত সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আক্তার উদ্দিনকে খুশি রাখতে হয়। শিক্ষকদের বদলিসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয়ে এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে বলতে নারাজ প্রধান শিক্ষকরা।
এই প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা এই প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন তোলে বলেন, ‘টাকা কর্তনের অভিযোগ আমি শুনলাম না, আপনারা জানলেন কোত্থেকে’। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজ করতে গেলে অভিযোগ আসতেই পারে। সব স্কুলের বরাদ্দ এক নয়, শিক্ষার্থী অনুসারে বরাদ্দ ছিল। তবে স্লিপ, ক্ষুদ্র মেরামত ও রুটিন মেরামত খাতের মোট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ভয়েস/আআ