শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
মো:ফারুক, পেকুয়া:
আসন্ন ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে পেকুয়ার উজানটিয়ায় উত্তাপ শুরু হয়েছে। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও নৌকার নমিনেশন না পেয়ে বিদ্রোহ হয়ে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিম। এছাড়াও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনসহ আরো বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছে।
তার মধ্যে নৌকার প্রার্থী বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে মাঠে থাকায় দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ভোট আদায় করার চেষ্টা করছে।
তবে রবিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে নৌকার প্রতিকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে চকরিয়া-পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলমকে ইঙ্গিত করে বলেন, নৌকার বিদ্রোহ করার জন্য ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিমকে আমার বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে বিজয়ী করতে নানা অপকৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “২০১১ সালে আমি প্রথম এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আমার উপর আস্থা রেখেছেন। তুলে দিয়েছিলেন উন্নয়নের প্রতিক নৌকা। আমি নৌকার মান রেখে বিজয়ী হয়ে উজানটিয়াবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। নেত্রী আবারও আমাকে নৌকা দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের এমপি মহোদয় সে নৌকা ডুবাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। শেখ হাসিনার মনোনীত প্রতিনিধি হিসাবে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় ভর করে তিনি আজ সংসদে গেছেন এখন তা তিনি ভুলে গেলেন।
উজানটিয়াবাসী সাংসদ জাফর আলমকে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে নৌকার প্রার্থী শহীদ বলেন, “গত সংসদ নির্বাচনে উজানটিয়ায় আপনি যে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোট পেয়েছিলেন তা আমার কল্যাণে পেয়েছেন। নৌকার কারণে পেয়েছেন। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে এসে সে নৌকার বিরোধীতা করার কারণে আপনাকে উজানটিয়াবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। আগামী ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তা দেখিয়ে দিবে। সেদিন নৌকার কাছে বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল করিমের সাথে আপনিইও হারবেন।”
এসময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার আহমদ। তিনি বলেন, “এমপি জাফর প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর উজানটিয়ায় প্রথম আগমন হয়েছিলো বিএনপি নেতার বাড়িতে। সে বাড়ির আনোয়ার হোছাইন এমজারুল আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। তাকে অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন এমপি মহোদয়। মূলত নৌকার প্রার্থীর ভোট ব্যাংক নষ্ট করতেই এমজারুলকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রধান লক্ষ্য নৌকা ডুবিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল করিমকে বিজয়ী করা।
এসময় উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি জিয়াবুল হক জিকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমদ, আবদুল আলীম,মিজানুর রহমান, শাহাদত সোহানসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভয়েস/আআ