বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টাইগারদের জয়ে হাসি

খেলাধুলা ডেস্ক:

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল বিশ্বকাপে ভুভুজেলা বাঁশির শুরু। সেই বাঁশি বেজেছিল বাংলাদেশেও; দেশের মাঠে ২০১৫-তে ওয়ানডের টানা ইতিহাসে। এবার সেই সুরে এক যুগ পর আবারও উন্মাতাল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এবার বাঁশি বেজেছে বাংলাদেশিদের মুখে, নতুন ইতিহাসের আনন্দে। সবুজ গ্যালারিকে বাংলার সবুজ করে তারাই কাল সেঞ্চুরিয়নকে করে দিলেন এক টুকরো বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় তামিম ইকবালদের। এই কৃতিত্ব শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম গৌরবগাথাই নয়, নিজেদের চেয়ে বড় শক্তির কোনো দলকে তাদের মাটিতে হারানোর দ্বিতীয় নজিরও। এর আগে উইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১-এ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে তাসকিন আহমেদের অবিস্মরণীয় কৃতিত্বে স্বাগতিকদের ৩৭ ওভারের মধ্যে ১৫৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে মাত্র ২৬.৩ ওভারে ৯ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে তামিমরা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এখন ২৪ ওয়ানডেতে এসেছে ৬ জয়। ম্যাচ ও সিরিজসেরা দুটো পুরস্কারই তাসকিনের। ২-১-এ সিরিজ জিতে সুপার লিগে ১২০ পয়েন্ট করে নিল টাইগাররা। পরিবারের দুঃসময়ে পাশে না থাকার কষ্ট হয়ত ছিল সাকিব আল হাসানের মনে। তার ওপর আজ তার জন্মদিন। তাসকিন জন্মদিনে সেরা উপহারটাই দিয়ে দিলেন সাকিবকে।

সিরিজ জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত অধিনায়ক তামিম ইকবালও। এই অর্জনকে নিজেদের ক্যারিয়ারের শীর্ষে রাখলেন তিনি। নিজেদের বলতে চার তারকার। যারা ২০০৬-০৭ থেকে টানা খেলছেন তামিমন্ডসাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। এই সাফল্য লম্বা ক্যারিয়ারের অর্জন তামিমের কাছে। এই আনন্দ বিশেষ। তাই ম্যাচ পুরস্কার বিতরণী শেষে তামিমেরই তর সইছিল না। সবাইকে ডাকছিলেন আস-আস বলে। এরপর প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের ট্রফি নিয়ে আলাদা ছবির মুহূর্ত তো ছিলই। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই তামিমের তৃপ্তি অনেক, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয়টাকে অবশ্যই সবার ওপরে রাখব। দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জেতা এটা অবশ্যই সেরা অর্জন। আমি প্রেজেন্টেশনেই বলেছি যে বাংলাদেশি পেসার ম্যাচসেরা হয়েছে ও সিরিজসেরাও। আমরা নরমালি বাংলাদেশের খেলা হলেই বাঁহাতি স্পিনার নিয়ে কথা বলি। কিন্তু এবার আমাদের পেসাররা ভালো করেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক খুশির ব্যাপার। আমি অনেক দিন ধরেই বলছিলাম যে আমরা পেস বোলিংয়ে নতুন শক্তি হয়ে উঠছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন কন্ডিশনে আমাদের সেটা প্রমাণ করার ছিল। আমরা তা পেরেছি।’

অবিশ্বাস্য এই সাফল্যের পরও তামিম নিজের কৃতিত্ব দিতে নারাজ। জয়ের প্রক্রিয়া দলের সবার অর্জনে এসেছে, সফল হয়েছেন। তাই নিজে এখনো শিখছেন বলে জানান তামিম, ‘নেতৃত্ব আমি এখনো শিখছি। নতুন নতুন বিষয় প্রতি ম্যাচেই আসে। সেখানের অংশগুলো আমি মাথায় রাখি। আমি এখনো বলব আমার জন্য এটা শুরু।’

সিরিজ জয়ের স্বপ্নটা উঁকি দিচ্ছিল সিরিজের শুরু থেকেই। ইতিহাসের শুরুটা হয় ইতিহাস থেকেই। সেঞ্চুরিয়নে প্রথম জয় আসে ৩৮ রানে, যা প্রোটিয়াতে বাংলাদেশের প্রথম জয় ছিল। সেই জয় দিয়েই সাহস পায় বাংলাদেশ। জোহানেসবার্গের রঙিন দিনটি অবশ্য বাংলাদেশের জন্য সাদা-কালো হয়ে যায় হতাশার হারে। তবুও আশা হারাননি তামিমরা। ফিরে আসার সাহস ধরে তৃতীয় ম্যাচে প্রোটিয়াদের নাস্তানাবুদ করে সিরিজ জিতে নেন। ম্যাচের শুরুর ৮টি ওভারই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। এরপর সবটাই বাংলাদেশের। ৮ ওভারে বোর্ডে ৫০ রান তোলে তারা। মিরাজের বলে কুইন্টন ডি ককের ৯ রানের বিদায়ে স্বাগতিকদের পতনের শুরু। এরপর সবটাই তাসকিনময়। প্রথম ২ ওভারের স্পেলে দেন মাত্র ৫ রান। এরপরের স্পেলে ২ ওভারে ২ উইকেট। তৃতীয় স্পেলে ১ ওভারেই নেন জোড়া উইকেট। সঙ্গে আরেক ওভারেও উইকেট। সব মিলিয়ে নিজের ৯ ওভারের স্পেলে ধসিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তাই মাত্র ৩৭ ওভারেই ১৫৪ রানে আলআউট। বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডেতে সর্বনিম্ন রান। বড় জুটি একটিও দাঁড় করাতে পারেনি তারা। ওপেনার জানেমান মালানের ৫৬ বলে সর্বোচ্চ রানটাও ৩৯। নিচের দিকে ডুয়ান প্রিটোরিয়াস ২০ ও কেশব মাহারাজ ২৮ না করলে দেড়শ রানও হতো না প্রোটিয়াদের। তাসকিনের ৫ উইকেট ছাড়াও সাকিব আল হাসান ২টি ও শরিফুল-মিরাজ ১টি করে উইকেট নেন।

লক্ষ্যটা কম হলেও ভয় ছিল একটু। পিচের চরিত্র পেসারদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। রাবাদা-এনগিদিরা কি ভয়ংকর হয়ে উঠবেন? শুরুর ১০ ওভারেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল। বিনা উইকেটে ৫৮ রানের জুটিতে শঙ্কা দূর করে জয়ের কাজটা সেখানেই শেষ করেন তামিমন্ডলিটন। দুজনের মাত্র ২০.৫ ওভারে ১২৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে আর পথ হারাতে হয়নি, শঙ্কায়ও পড়েনি বাংলাদেশ। তামিম ১৪ চারে ৮২ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন শেষ পর্যন্ত, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫২তম ফিফটি। লিটন ৪৮ রান করেন ৫৭ বলে ৮ চারে। তিনে নেমে সাকিব ২০ বলে ১৮ করে নিজেকেই জন্মদিনের উপহার দিলেন। তামিমন্ডসাকিব জুটির ২৯ রানে সেঞ্চুরিয়নে লেখা হলো নতুন ইতিহাস। মাত্র ২৬.৩ (১৪১ বল) ওভারেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। বলের হিসাবে বাংলাদেশের পঞ্চম সেরা জয়। ইতিহাসের অংশ হতে আসা হাজারো প্রবাসী তাই স্মৃতির মণিকোঠায় সেরাটাই নিয়ে গেলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ২০০২ থেকে শুরুর ৭ ওয়ানডেতে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপের ওই অঘটন দলটির সঙ্গে টাইগারদের রসায়ন বদলে দেয়। ওই ম্যাচ থেকে পরের চার, সবকটি জয়ের প্রোটিয়াদের কেমন যেন দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ধারা ছিল এবারও, তাতে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। এই ইতিহাস সাহস জোগায় ২০২৩ বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION