রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

আজ বিশ্ব জেলিফিশ দিবস: নানা কর্মসূচি 

বিশেষ প্রতিবেদক:
জীববিজ্ঞানে রেডিয়াল বা অরীয় প্রতিসাম্যের প্রাণির উদাহরণ হিসাবে উপস্থাপন করা জেলিফিশকে। আর সচক্ষে এ জেলিফিশের দেখা পাওয়া যায় কক্সবাজারে এলে। তবে বঙ্গোপসাগরে প্রচুর জেলিফিশের দেখা পাওয়া গেলেও এদেশে প্রাণিটি খাওয়া হয় না বলে এর কোন অর্থনৈতিক মূল্য নেই। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেলিফিশ খাদ্য হিসাবে এবং ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরাও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে এই প্রাণিটিকে কাজে লাগাতে পারি। আর সেই পথ দেখাতেই বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিওআরআই) এর উদ্যোগে আজ ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের পালন করা হচ্ছে “বিশ্ব জেলিফিশ দিবস’।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে  ‘Know the Jellyfish, Harness the Ocean Resource’ বা ‘জেলিফিশকে জানি, এই সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগাই’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার জানান, বৃহস্পতিবার ৩ নভেম্বর সকালে প্রতিষ্ঠানটির সেমিনার হলে অনুষ্টেয় উক্ত আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ অনুষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ মোঃ রাশেদ-উন-নবী এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন চবির ফিশারীজ অনুষদের প্রফেসর ডঃ আশরাফুল আজম খান, ভারতের আন্নামালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ এস. ব্রগদেশ্বরন এবং কীনোট স্পীকার হিসেবে থাকবেন তিনি নিজে। এছাড়া সেমিনারে আরও আলোচনা করবেন বাংলাদেশ ফিশারীজ রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিএফআরআই) এর মেরিন ফিশারীজ এন্ড টেকনোলজি স্টেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ শফিকুর রহমান, পাঞ্জাবের লাভলী প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি স্কলার অমিতা কুমারী চৌধুরী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ এম. গোলাম মোস্তফা, বোরির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ শিমুল ভুঁইয়া।
তিনি জানান, সেমিনারটিতে জেলিফিশের বায়োলজি, টক্সিন ও মানব কল্যাণ, জেলিফিশ বøুম, সংরক্ষণ এবং প্রসপেক্টস ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বিজ্ঞানীরা জানান. মানুষের চেয়েও আদিম এই প্রাণিটির পৃথিবীতে আগমন প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে। আর এই প্রাচীন প্রাণীটিকে সম্মান ও ভালবাসা জানাতে ২০১৪ সাল হতে বিশ^ব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে।  তবে নামে ফিশ বা মাছ হলেও জেলিফিশ আসলে মাছ নয়। এদের বাহ্যিক গঠনের সাথে মাছের গঠনের কোন ধরনের মিল নেই। এরা মূলত নিডারিয়া পর্বের অমেরুদন্ডী প্রাণী এবং এরা এতই বৈচিত্রময় যে, অনেক বিজ্ঞানী তাদের কেবল “জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন” হিসাবে উল্লেখ করেছেন। জেলিফিশের মাছের মতো আঁশ, ফুলকা বা পাখনা থাকে না। এর পরিবর্তে তারা তাদের গোলাকৃতি “বেল” খোলা এবং বন্ধ করার মাধ্যমে সাঁতার কাটে। তাদের শরীর ৯৮ ভাগ পানি দিয়ে গঠিত। যখন তারা উপকূলে ভেসে চলে আসে, তারা মাত্র কয়েক ঘন্টা পরে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। কারণ তাদের দেহ দ্রæত বাতাসে বাষ্প হয়ে যায়। তাদের কোনো মস্তিষ্ক নেই, কেবল একটি প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে।
জেলিফিশ সমুদ্রের নীচের খাদ্য শৃঙ্খলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যদিও এরা অপেক্ষাকৃত ছোট ও সহজ প্রাণী। এরা সমুদ্রের সূক্ষœ বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এরা এক ধরনের প্লাংকটন বলে গভীর সমুদ্রের কচ্ছপ, সানফিশ, স্পেডফিশ, টুনা, হাঙর, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন ক্রাস্টাশিয়ানের প্রিয় খাদ্য। অন্যদিকে সামুদ্রিক শৈবাল, জুয়োপ্লাংকটন এবং ছোট ছোট চিংড়ি জেলিফিশের প্রিয় খাদ্য। আর এভাবে এসব সামুদ্রিক প্রানীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জেলিফিশ একটি স্বাস্থ্যকর সামুদ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির জেলিফিশ রয়েছে। প্রায়শই সমুদ্র বিজ্ঞানীরা জেলিফিশ এবং অন্যান্য জীবের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখার মাধ্যমে সমুদ্রের স্বাস্থ্য নিরীক্ষা করেন। এছাড়া কার্বন ক্যাপচারে এবং গভীর সমুদ্রে মাছের বিকাশের জন্য মাইক্রোহ্যাবিটেট তৈরিতেও জেলিফিশের অবদান রয়েছে। এদের যথেষ্ট অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে। জলবায়ূ পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হুমকী¯রূপ। তবে জেলিফিশের কিছু কিছু প্রজাতি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে মানুষের খাদ্যের অংশ হয়ে ওঠেছে। চায়না, জাপান এবং কোরিয়ার মতো বেশ কিছু জায়গায় এটি খুব মজার খাবার হিসেবে বিবেচিত।
তিনি জানান, জাপানিরা জেলিফিশকে ক্যান্ডিতে রূপান্তরিত করেছে। এক ধরনের মিষ্টি ও নোনতা ক্যারামেল, চিনি, স্টার্চ সিরাপ এবং জেলিফিশ পাউডার দিয়ে তৈরী করা হয় সেই ক্যান্ডি, যা বেশ ব্যয়বহুল এবং সুস্বাদুও বটে। এছাড়াও সালাদে, নুডলসে এবং সয়া সস দিয়ে প্রায়শই এদের খাওয়া হয়। থাইল্যান্ড জেলিফিশ রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এ ছাড়াও কোলাজেনের উৎস হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায়, ঔষধ শিল্পে এবং বিশ্বজুড়ে পাবলিক একুরিয়ামে জেলিফিশ প্রদর্শিত হয়।
ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION