বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

টেকনাফ সৈকতে ভেসে এলো বিশালাকার ডলফিন 

বলরাম দাশ অনুপম:
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রে সৈকতে একটি রক্তাক্ত ডলফিন মাছ পাওয়া গেছে। কোনও নড়াচড়া না থাকায় সেটিকে মৃত বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় জেলেরা।
সোমবার (২২ জুন) সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া সমুদ্রে এই মাছটি দেখে লোকজন ভিড় করেন। এটিকে হাম্পব্যাক প্রজাতির ডলফিন বলছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ৩ ও ৪ এপ্রিল টেকনাফ উপকূলে ভেসে আসে অন্তত দুটি ডলফিনের মৃতদেহ।
সর্বশেষ ভেসে আসা ডলফিনটির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. এহসানুল করিম বলেন, ‘এটি ইন্দো-প্যাসিফিক বোতল নাক (হাম্পব্যাক) ডলফিন নামে পরিচিত। এই প্রজাতিগুলো দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে দলছুট হয়ে ডলফিন মাছটি টেকনাফের কাছাকাছি এসেছে এবং আঘাত পেয়ে মারা গেছে।’
তিনি বলেন, ‘৯-১০ ফুট উচ্চতার এই মাছটির ওজন ১৬০ কেজি হতে পারে। মূলত এই মাছগুলো ভারত এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রান্তীয় জলে পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ সাধারণ বোতলজাতীয় ডলফিনের বিপরীতে, এই ডলফিনগুলি অগভীর, উপকূলীয় জল পছন্দ করে। ফলে এ মাছ আশেপাশের অঞ্চলে দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়। পরিবেশবাদীরা জানান, ডলফিন খাবারের জন্য মাছের পালের পেছনে থাকে। জেলেরাও বিষয়টা জানেন। মাছধরার জন্য জেলেরা সাগরের ডলফিনের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেন। এ সময় জালে আটকা পড়ে ডলফিনগুলো মারা যায়।’
স্থানীয় সাংবাদিক মো. জাকারিয়া আলফাজ জানান, সোমবার সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রে সৈকতে একটি মৃত ডলফিন দেখা মেলে। এ সময় সেটি দেখতে লোকজন ভিড় করে। অনেককে আবার ছবি তুলতে দেখা গেছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত ডলফিনটি সেখানে পড়ে ছিল। তবে আগের দিন সেখানে আরও একটি রক্তাক্ত প্রজাটির মাছ দেখে স্থানীয় জেলেরা, সেটিকে গভীর সাগরে দিয়ে আসে। এখন সেই মাছটি মারা গেছে কিনা সন্দেহ।
কক্সবাজারের পরিবেশ-বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘এ সময়ে ডলফিন মারা যাওয়ার কথা না। হয়তো পানি দূষণ, অথবা জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা গেছে। এসব ডলফিন রক্ষার্থে জেলেদের সচেতনতা এবং পানির দূষণ কমানো দরকার।’
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুল আমিন জানান, ‘আমার এলাকায় সৈকতে একটি বিশাল প্রজাতির মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। আবার অনেকে সেটিকে তিমি মাছও বলছে। এই সময়ে সাগরে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ। কিন্তু কীভাবে মাছটি মারা গেলে বলা মুশকিল। তবে মাছের কয়েকটি অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মাছটি মাটি চাপা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘একটি ডলফিন প্রজাতির মাছের মৃতদেহের বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’
এ বিষয়ে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ দিপক বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে মৃত একটি বিশাল প্রজাতির মাছ ভেসে এসেছে। স্থানীয়দের সহতায় সেটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION