রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পেশীশক্তির জোরে অন্যের জমি দখলে নেওয়ার জন্য রাতগভীরে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন চিহ্নিত ভূমিদস্যু আকতার গং। স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের যোগসাজশে ওই জমি দখলের নেওয়ার জন্য তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ছনখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার ছৈয়দ আলম ও একই এলাকার ছৈয়দুর রহমানের পুত্র আকতার গংয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। রবিবার (২০ নভেম্বর) জমির মালিক ছৈয়দ আলম বাদী হয়ে সদর থানায় ভূমিদস্যু আকতার গংয়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সৈয়দ আলমের ৪০ বছর ধরে ভোগদখলীয় জমিতে পাশ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা আকতার গং পেশিশক্তির জোরে রাতের অন্ধকারে জবরদখল করে ঘর নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর দিতে থাকেন। এতে জমির মালিক ছৈয়দ আলম বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত আকতার গং ও একাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পথ আগলিয়ে রেখে অবৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে জীবন নাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি কেউ বাধা দিতে গেলেই আক্রমন করার উদ্দেশ্যে তারা জমির পাশেই সবসময় রড, চাপাটি ও লাটিসোটা নিয়ে বসে থাকেন বলে জানায় গ্রামবাসী। এদের এসব কর্মকান্ডে স্থানীয় কয়েকজন নেতার ইন্দন আছে বলেও জানায় তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছনখোলা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ছৈয়দুর রহমানের পুত্রদের এরকম বেপরোয়া আচরণ আজ থেকে নয়, তার প্রত্যেকটা ছেলেই কোন না কোন অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। নিজেদের নামে জায়গা জমি থাকা সত্ত্বেও ভূমিহীন দেখিয়ে একাধিক সরকারি ১নং খতিয়ানের জমি খতিয়ান করে ভোগদখলে রয়েছে।এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগীদের দাবি এই বেপরোয়া আচরণের কারণে ভূমিদস্যু আকতার গং কে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
ভূমিদস্যু লিডার আকতারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগী আবদুল গফুর বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে আমি ওয়ারিশ সূত্রে ও অন্যান্য ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি কিনে ভোগ দখলে আছি। এ জমির সকল কাগজ-পত্র আমার আছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ভূমিদস্য আকতারের কুনজর পড়ে আমার জমির ওপর। সে কয়েকবার আমার জমিতে সার্ভেয়ার নিয়ে অনধিকারে প্রবেশ করে কু-উদ্দেশ্যে পরিমাপ করে আসছিল। এমনকি চলিত বছরের শুরুতে আমার ভোগদখলীয় জমিতে পরিমাপে ১৫/২০ কড়া জমিবেশি আছে বলে পেশী শক্তির জোরে জবরদখল করে নিয়ে সীমানা প্রাচীর দেয়। এরপর বিক্রি করার উদ্দেশ্যে অন্য ক্রেতার সাথে জমিটি বায়না নামা করে রেখেছেন। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদার আকতারের কাছে এগুলি খুবই মামুলি ব্যাপার। তাদের দলিল-পত্র হলো নিজের ইচ্ছা, ক্ষমতা আর পেশিশক্তি। আকতার গং আমার ও আমার শরীকদের জমি নিজের মত করে মেপে সীমানা দিয়ে অন্যের সাথে বায়না নামা করে রেখেছেন।
সৈয়দ আলম বলেন, তার ভোগদখলীয় জমি ‘দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বাধা প্রদান করতে গেলে, আকতার গং তার লোকদের দ্বারা আমাদেরকে প্রতিহত করতে তেরে এসে অবৈধ অস্ত্রের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। অতঃপর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে বাধ্যহয়ে স্থানীয় থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে ভূমিদস্য আক্তারের নেতৃত্বে জমি দখলের খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দুপক্ষের কাগজপত্র ও বক্তব্য শোনেন। এসময় আকতার সহ অন্য কয়েক ব্যক্তির বক্তব্য ছিল উদ্ধত্যপূর্ণ ও অস্পষ্ট। সাংবাদিকরা কেন এলো এজন্য হুমকি ধামকি দিয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন।তাছাড়া জমি জবর দখলের ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাদেরকেও অস্পষ্ট ও খোড়া যুক্তি দিতে থাকেন আকতার বাহিনীর সদস্যরা।
জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার ছৈয়দ আলম ও এলাকাবাসী জানান, সদর উপজেলার পাতলী মাছুয়াখালী মৌজার সৃজিত বিএস ৬৮৪১ নং খতিয়ানের ৫৮৭ দাগের ০.২৩ শতাংশ জমি খরিদা সূত্রে মালিক হয়ে ভোক্তভোগী ছৈয়দ আলম দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত ভোগ দখলে আছেন। প্রতিপক্ষ আকতার গং ১০/১২ বছর পূর্বে মৃত ইব্রাহীমের ওয়ারিশের কাছ থেকে কিছু দখলীয় ও প্রায় জমি বেদখলীয় বিরোধপূর্ণ জমি ক্রয় করে বর্তমান প্রায় জমি মোটা অংকে বিক্রি করে অন্যস্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এমতাবস্থায় তাদের ক্রয়কৃত জমির মধ্যে কিছু জমি আমার ভোগদখলীয় জমিতে আছে বলে হুমকি ধমকি দিয়ে আসতেছে। এমনকি পেশী শক্তির জোরে বারবার জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি অসহায় বোধ করি এবং জমিজমা ও নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওকিলের মাধ্যমে মাননীয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) এর রাজস্ব আদালতে ভূয়া খতিয়ানের স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করিলে আদালত উক্ত দাগাদির জমিতে স্থাগিতাদেশ আরোপ করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আলমসহ তার পুত্রদের ২য় পক্ষ করে
ছৈয়দুর রহমানের পুত্র আক্তারুল ইসলাম ১ম পক্ষ হয়ে একটি এম আর মামলা (১৯০৯/২২), ধারা ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৪৪ দায়ের করেন গত ২ নভেম্বর ২০২২ তারিখ। প্রথম পক্ষে মামলা দায়ের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বিরোধীয় ভূমিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারার বিধান মোতাবেক নোটিশ জারি করেন আদালত। নোটিশ পাওয়ার পর কোন পক্ষ যদি উক্ত বিরোধীয় ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ভংগের চেষ্টা করেন সেই পক্ষ আইন আমলে আসিতে বাধ্য থাকবেন। উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাতে আদালত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
১ম পক্ষ আক্তারুল ইসলাম অন্যের জমিতে অনধিকারে ১৪৪ ধারা জারির আদেশ চেয়ে মামলা করার প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। অথচ ১ম পক্ষ ভূমিদস্যু আকতার নিজেই আদালতের কোন আদেশ না মেনে নিজেদের মাধ্যমে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ নিজেরাই ভঙ্গ করে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি দখলের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মানের কাজ করছেন। আদালতের নিদের্শের পরও আকতার গং রবিবার (২০ নভেম্বর ) সকাল থেকে একাধিক লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিদখলে নেয়ার জন্য ঘর নির্মাণ ও কাটা শিকলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশ অমান্যকারী সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন।
ভয়েস/জেইউ।