শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে কক্সবাজার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দৃষ্টি রয়েছে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে। কারণ, এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত এমপি জাফর আলমের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এ আসন জনমত জরিপে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে রয়েছে তিনি। হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে ইব্রাহিম বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনে এমপি পদপ্রার্থী পরিচ্ছন্ন জাতীয় রাজনীতিবিদ মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীককে নিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় সৈয়দ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেছেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার মানুষ দখলবাজ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী গরু চোর ডাকাত চক্রের কবলে জিন্মিদশায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পাশাপাশি এলাকা ভিত্তিক সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের দুর্দিনের ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাকর্মীরা এই অপশক্তির কাছে শাররীক নির্যাতন, মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
চকরিয়া দোলাজাহারার শফিউল করিম, কাকারার আবুল কালাম, উজানটিয়ার রবিউল আলম সহ অনেকে জানিয়েছেন, গরু চোর সিন্ডিকেটে বিরুদ্ধে চকরিয়ার মানুষ এক পায়ে হাড়া। গরু চোরকে সাধারণ মানুষ ভোট দিবে না। ভোট দিবে পরিচ্ছন্ন একজন প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তাই, কাল তার হাতঘড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে এমপি নির্বাচিত করবে সকলে।
হাতঘড়ি প্রতীক সমর্থণে গনজোয়ার সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া জনপদে গত ৫ বছরের দুঃশাসন এর জবাব দিবে হাত ঘড়ির প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে। এখন হাতঘড়ির জয়জয়কার অবস্থা এবং সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন হাত ঘড়ি।
এমপি পদপ্রার্থী মেজর জেনারেল ইব্রাহিম বীরপ্রতীক প্রতিটি জনসভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে আরও বলেছেন, চকরিয়া পেকুয়া জনপদে এই অপশক্তি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিচারের নামে জোর করে মানুষের জায়গা দখলে নিয়েছে, চিংড়ি ঘের জবরদখল, মাসিক ভিত্তিতে চিংড়ি ঘের থেকে চাঁদা উত্তোলন, সরকারি পাহাড় কেটে মাটি লুট, সড়ক বিভাগের জায়গা দখলে নিয়ে মার্কেট নির্মাণ, সরকারি পুকুর জলাশয় ভরাট করে প্লট বাণিজ্য ও মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সরকারি টিআর কাবিখার বরাদ্দ ভুয়া প্রকল্প বানিয়ে টাকা লুটপাট সহ লাগামহীন অনিয়ম দুর্নীতি করেছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া নিয়ে তদন্ত করছেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থীর পাঁচ বছরের এসব ইতিহাস তুলে ধরে চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বক্তব্য দিয়েছেন এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক। ওইসময় জনগণকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই অপশক্তির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। সেইজন্য দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদেরকে নৌকা না দিয়ে বিতাড়িত করেছেন। এই অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা এই অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিতে আমাকে চকরিয়া পেকুয়ার মানুষের পাশে পাঠিয়েছেন। মানুষের কাছে সুশাসন নিশ্চিত করার বার্তা পৌঁছে দেয়ার পর ভোটের মাঠে জনসাধারণ মেজর জেনারেল সৈয়দ ইব্রারাহিমকে নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু করে। এরইমধ্যে গেল একমাসের নির্বাাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সৈয়দ ইবরাহিম। শেষমুহুর্তে এসে নির্বাচনী এলাকায় জেনারেল ইব্রাহিমের হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে ভোটারদের মাঝে উৎসবমুখর গনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। জনসাধারণ ও ভোটাররা একটু দেরীতে হলেও বুঝতে পেরেছে, দখলবাজ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী চোর ডাকাত চক্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হলে চকরিয়া পেকুয়া আসনে মেজর জেনারেল সৈয়দ ইবরাহিম বীরপ্রতীক এর মতো নেতার প্রয়োজন।
জানা গেছে, গত ৩ ডিসেম্বর প্রার্থীতা বৈধ হওয়ার পর থেকে চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন জনপদে নির্বাচনী প্রচারণা পুরোদমে শুরু করেন এমপি প্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভোটের মাঠে না থাকায় সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চকরিয়ায় মতবিনিময় সভায় সৈয়দ ইবরাহিম বীরপ্রতীককে আওয়ামী লীগের সমর্থন দিয়ে প্রার্থী হিসেবে সবাইকে কাজ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকলস্থরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
এরপর বদলে যেতে শুরু করে চকরিয়া পেকুয়া আসনের ভোটের চিত্র। আওয়ামী লীগের কক্সবাজার জেলা, চকরিয়া উপজেলা, পেকুয়া উপজেলা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ থেকে মাঠের নেতাকর্মীরা কোমড় বেঁধে মাঠে নামেন এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক তথা হাতঘড়ি মার্কার পক্ষে।
এতে করে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেছে হাতঘড়ি মার্কার প্রচারণা। চা-দোকান, রাস্তা-ঘাট ও যানবাহনে সবার মুখে মুখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে হাতঘড়ির মার্কার জয়গান। সৈয়দ ইবরাহিম অল্প সময়ে বিশাল এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পা-রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো সহজ না হলেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহায়তায় জেনারেল ইবরাহিমের পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটাররা।
গত ১৬ ডিসেম্বর চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে বিজয় দিবসের আলোচনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্টানে যোগ দিয়ে চকরিয়ায় ভোটের মাঠে আনুষ্ঠানিক পদার্পন করেন মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক।
গত ২০ দিনে চকরিয়া-পেকুয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি হাতঘড়ির মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়া তিনি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানে উৎসাহ প্রদান করেন ভোটারদের। এতে সার্বক্ষণিক সহায়তা করেন বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তার সঙ্গে সাবর্ক্ষনিক ভোটের মাঠে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সহসভাপতি রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী, আমিনুর রশিদ দুলাল, মিজানুর রহমান, এসএম গিয়াস উদ্দিন, জিএম আবুল কাশেম, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক একেএম গিয়াস উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন এর সভাপতি চেয়ারম্যান আজিমুল হক, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উন্মে কুলছুম মিনু,
কাকারা ইউপির চেয়ারম্যান মো. শাহাবউদ্দিন, বদরখালীর চেয়ারম্যান নূরে হোছাইন আরিফ, ঢেমুশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মইন উদ্দিন চৌধুরী, বমুবিলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনজুরুল কাদের, বিএমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম, লক্ষারচর ইউপি চেয়ারম্যান আওরাঙ্গজেব বুলেট, পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীসহ দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছেন, হাতঘড়ি মার্কার এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক।
সৈয়দ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এই আসনের নৌকা মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় নির্বাচন করতে না পারলেও তিনি আমার হাত ঘড়ি প্রতীককে সমর্থন দিয়ে প্রচারণায় অংশ না নিলে নির্বাচনী মাঠে এত অল্প সময়ে এতদূর এগোনো সম্ভব হতো না। আমি সালাহউদ্দিন সিআইপি সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সকলের কৃতজ্ঞ।
ভয়েস/আআ