বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সচল রেখেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রকাশ্য দাবি করে আসছেন, তার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তৈরি করা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে কার্যকর প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, হরমুজ প্রণালি বরাবর ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিরই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে তেহরান। এর ফলে ওই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন রণতরি এবং তেলের ট্যাঙ্কারগুলো এখন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এই ঘাঁটিগুলোর ভেতরে থাকা মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে অথবা সরাসরি নির্দিষ্ট লঞ্চপ্যাড থেকে নিক্ষেপ করতে পারে। বর্তমানে মাত্র ৩টি ঘাঁটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে যেমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে স্বল্প পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে আংশিক বা পূর্ণমাত্রায় সচল বলে জানানো হয়েছে।

এই নতুন তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গত কয়েক মাসের প্রকাশ্য আশ্বাসের বিপরীত। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘নিশ্চিহ্ন’ এবং তারা আর কোনও হুমকি নয়। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এবং পেন্টাগন মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘ভার্চুয়াল দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, এক মাসব্যাপী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়, তবে বড় ধরনের সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্র, যেমন টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে ফেলেছে। এই ঘাটতি পূরণে কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা ট্রাম্পের চাহিদামতো দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও তার সামরিক উপদেষ্টারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যেমন বাড়িয়ে দেখেছেন, তেমনি ইরানের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION