মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
ভয়েস সংবাদদাতা:
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ আনসার সদস্য মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না’ গানের এই লাইনগুলো বাস্তবে মিলে যায় মহেশখালী তরুণ আনসার সদস্য মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানের জীবনের সঙ্গে।
পাসপোর্ট করতে আসা অসহায় রোগীদের দেখলেই তার মন যেন মানে না। পাসপোর্ট অফিসে অসহায় রোগীদের দেখলেই দৌড়ে ছুটে যায় সে এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত রাখে তরুণ এই আনসার সদস্য মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান। রোগীদের হুইল চেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া, তাদের জন্য পানি ব্যবস্থা করা, রোগীদের এম্বুলেন্স থেকে নামা ও রোগীরা যাতে দীর্ঘলাইনে ভোগান্তির শিকার না হয়ে ফিঙ্গার প্রিন্টসহ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ শেরে দ্রুত চলে যেতে পারে সে দিকে নজর রাখে।
গত বৃহস্পতিবার (০৬ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে গেলে এমন দৃশ্যের দেখা মিলে।
জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের এই তরুণ ২০১৯ সালে শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। পরে সরকারি মাতামুহুরী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি হয় তার। সে থেকে মানব সেবায় জড়িয়ে পড়ে তরুণ আনসার সদস্য মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে আসা রোগীর কয়েকজন স্বজন জানায়, বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট করাতে আসছি। ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে রোগীকে সাথে নিয়ে আসতে হয় পাসপোর্ট অফিসে। আলহাদুল্লিাহ, আনসার সদস্যের সহায়তায় কোন রকম হয়রানি ছাড়াই ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে চলে যাচ্ছি।

মানবিক আনসার সদস্য মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে এবিষয়ে কথা হলে সে বলে, আমি অসুস্থ, অসহায় রোগীদের সেবা করে শান্তি পায়। আমার চাকরির শুরুতেই দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অসহায় রোগীদের অর্থনাত দেখে তাদের সেবায় সবসময় নিয়োজিত ছিলাম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে দিতে এখন অসহায় রোগীদের পাশে দাড়ানো আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।
মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পাসাপোর্ট করতে এসে অনেকেই নিয়ম-কানুন জানে না। ফরম পূরণের পদ্ধতি, পূরণকৃত নমুনা ফরম, ই-পাসপোর্ট এর বিভিন্ন নিয়ম-কানুন, সরকারি নির্দেশনাসহ নানা তথ্য দিয়ে তাদের সহায়তা করি। পাসপোর্ট অফিসে রোগীরা পাসপোর্ট করতে এসে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়। অসুস্থ রোগীরা সাধারণ মানুষের মত দীর্ঘলাইনে দাড়াতে পারে না। তাই রোগীরা যাতে তাড়াতাড়ি তাদের প্রয়োজনীয় কাজ শেরে চলে যেতে পারে সে দিকে লক্ষ রাখি।
ওয়াহিদুজ্জামান আরও বলেন, প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে এখানে যেসব রোগীরা পাসর্পোট করতে আসেন তাদের জন্য আমার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবস্থা করে দেন।
মহেশখালীর শাপলাপুরের বাসিন্দা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানের এক প্রতিবেশী জানান, ছোটবেলা থেকেই ছেলেটির মাঝে সাধ্যমত মানুষকে সহযোগিতার মনোভাব দেখা যেত। চাকুরি জীবনেও মানুষকে সহয়তার করার কথা শুনে ভালো লাগছে। আর শাপলাপুরের ছেলে হিসেবে এমন ভালো সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার সুনাম বেড়েছে তাই তার মঙ্গল কামনা করে আরো উন্নতি কামনা করেন তিনি।
ভয়েস/জেইউ।