বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে নিরব চীন, রাশিয়া ও ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি দিতে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। দেশটির সেনাবাহিনীকে দমনপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানানো এবং তাদের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গও ছিল ওই বিবৃতিতে। তবে মঙ্গলবার চীন-রাশিয়া-ভারত ও ভিয়েতনাম সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অস্বীকার করার কারণে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় পরিষদ। অবশ্য আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন কূটনীতিকরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবারের খসড়া বিবৃতিটি হাতে পেয়েছে রয়টার্স। তাতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বলা হয় মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে নিরাপত্তা পরিষদ। দেশটির বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ গ্রহণের পরিষদের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয় এতে। গত শুক্রবার এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর নিরাপত্তা পরিষদে ওই খসড়া বিবৃতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো বিবৃতিটির প্রাথমিক খসড়া তৈরি করে যুক্তরাজ্য। তবে মঙ্গলবার রাতে এটি চূড়ান্ত করার আগে সংশোধনী আনতে বলে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ভিয়েতনাম। এসব দেশের পক্ষ থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা ও জান্তার বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকির প্রসঙ্গ দুটি বাদ দিতে বলা হয়। উল্লেখ্য এই ধরনের বিবৃতি দিতে হলে পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে একমত হতে হয়। সেই ঐকমত্য না হওয়ায় বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয় জাতিসংঘ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার করা হয়েছে সু চিসহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। সেনাবাহিনীর অভিযোগ, গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি করে জয় পেয়েছে এনএলডি। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। দেশটিতে বর্তমানে জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ চলছে। এরই মধ্যে সহিংস এ বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।

অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারির নিন্দা জানিয়ে এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত মাসে বিবৃতি দেয় নিরাপত্তা পরিষদ। চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার মুখে সেই বিবৃতিতেও সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানানো হয়নি। সর্বশেষ বিবৃতি নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার আগে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন বিবৃতি দেওয়ার জন্য প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের নিজস্ব ও সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে আমরা সব সময় জোরালো কণ্ঠ ও শক্ত পদক্ষেপ আশা করি।’

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION