মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
খেলাধুলা ডেস্ক:
দুপুর ১টায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ। এরপর ক্রাইস্টচার্চের হোটেল ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বাংলাদেশ দল। মুক্তির আনন্দে গোটা দল ঘুরে বেড়ালো সেখানকার সিটি সেন্টারে। কিছু কেনাকাটা। শুধু কী তাই! দুই সপ্তাহ পর প্রথম বাইরে কোনো রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারলো টাইগাররা। সেখান থেকে বিমানে চেপে সোজা কুইন্সটাউনে। এরপর রাতে আবারো বাইরে খাওয়া। হ্যাঁ, মাস্কও পড়তে হচ্ছে না তাদের।
আজ নিউজিল্যান্ড সময় সকাল ৯ টায় শুরু হবে প্রথম দলগত অনুশীলন। তাই আগের রাতে একটু তাড়াতাড়িই ঘুমাতে যান সবাই। তার আগে এই সফরে বাংলাদেশ দলের ডেলিগেট প্রধান ও বিসিবির মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানালেন দারুণ এক ‘কোয়ারেন্টিন’ অভিজ্ঞতার কথা। দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘প্রথম তিনটা দিন মনে হয়েছিল খুব বাজে কাটবে কোয়ারেন্টিনের সময়টা। এরপর যখন ওরা আমাদের একটু একটু করে সুযোগ দিতে শুরু করলো এরপর আর খারাপ লাগেনি।
১৪ দিন কেটে গেছে দারুণভাবে। শেষ ৭ দিনতো দল অনুশীলন করেছে। আজ আমরা হোটেল ছেড়ে কুইন্সটাউন এসেছি। সেখানে শহরের মেয়র জিম বোল্ট আমাদের বরণ করে নিতে আসেন। আমরাও তাকে ক্রেস্ট দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমাকে ওদের সরকারের পক্ষ থেকে এসএমএস দিয়ে প্রংশসাও করেছে। ওরা বলেছে আমরা দারুণ সুশৃঙ্খল দল। আমাাদের
সহযোগিতায় ওরা মুগ্ধ। আমিও আমাদের দলের আচরণে দারুণ খুশি।’ ২৪শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ই মার্চ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে কোয়ারেন্টিনে ছিল বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে মুক্তির পর তারা আরো একটি হোটেলে কিছুটা সময় কাটিয়েছে কুইন্সটাউনের বিমানে ওঠার আগে। দলবেঁধে গেছে সিটি সেন্টারে। সঙ্গে থাকা জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানালেন দারুণ এক মুক্তির অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ থেকে স্বাধীন। হ্যাঁ, এমনটাই মনে হচ্ছে আমার কাছে।
আইসোলেশন সেন্টার থেকে বের হয়েই আমরা আরো একটি হোটেলে যাই। সেখান থেকে আমারা ঘুরতে বের হয়েছিলাম। বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছি ক্রাইস্টচার্চ সিটি সেন্টারে। দারুণ লেগেছে এই বের হওয়াটা। সবচেয়ে বড় কথা হলো ১৪ দিন পর প্রথম আমরা বাইরে খাওয়ার সুযোগ পেলাম। দুপুরে একসঙ্গে খেয়েছি। এরপর কুইন্সটাউনে এসে হোটেলে ব্যাগ রেখে আবারো দলের কম বেশি সবাই এক সঙ্গে রাতের খাবার খেতে বের হয়েছি। বিষয়গুলো এত দিন মিস করছিলাম।
আজ সকালে আমরা ৯ টায় অনুশীলনে যাবো। এবার সবাই একসঙ্গে ক্যাম্পে অনুশীলন করবে স্থানীয় সময় দুপুর ১ টায়।’ অথচ বাংলাদেশ দলের ক্রাইস্টচার্চে পা রাখার পর শুরুর অভিজ্ঞতা ছিল ভীতি জাগানো। কয়েকজন ক্রিকেটার শুরুতে ভয় পেয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। কারণ, হোটেল রুমের বাইরে রাখা খাবার। কিন্তু সেটি নিতেও মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। প্রথম ২৪ ঘণ্টা তো রুমের বাইরে যাওয়া যায়নি। এরপর ৫ দিন মাত্র ৩০ মিনিট পেয়েছে খোলা হওয়ায় যাওয়ার সুযোগ। হ্যা, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ দলের প্রথম ৭ দিন এভাবেই কেটেছে। পরের এক সপ্তাহ বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেলেও মাস্ক পড়েই বের হতে হতো।
কিন্তু গতকাল থেকে সেটিও লাগছে না। এই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে দলের সদস্য মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘অন্যরকম লাগছে। হ্যাঁ, দিনটার জন্য অপেক্ষা করেছি। আজই সবাই এক সঙ্গে হলাম দুই সপ্তাহ পর। এক সঙ্গে ঘুরতে গেলাম, বাইরে খেলাম। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখন আর আমাদের মাস্ক পড়তে হবে না। এখানে কেউ কোয়ারেন্টিনে না থাকলে মাস্ক পড়তেও হয় না। দেশে কিন্ত এটি আমরা পারি না। এটা ভালো লাগছে।’
বাংলাদেশ দলের কোয়ারেন্টিন নিয়ে সন্তুষ্ট নিউজিল্যান্ড। আর দলের দারুণ আচরণে খুশি জালাল ইউনুসও। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে দলের সদস্যরা সবকিছু দারুণভাবে মেনে চলেছে। ওরা যখন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে সেটিও ভালোভাবে ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে ব্যাটিং অনুশীলনটা সেরে নিয়েছে তারা। ছেলেদের নিয়ে আমি ভীষণ খুশি।’
এর আগে কোয়ারেন্টিন বিধি ভঙ্গের দায়ে সফরকারী পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নিউজিল্যান্ড থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
ভয়েস/ জেইউ।