সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
আইন প্রণয়নে ইসির উদ্যোগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: ফখরুল ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে ম্যাডামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। অনেকদিন পর তার মুখে হাসি দেখেছি, যেটা এই কয়দিন ছিল না। একেবারেই ছিল না।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহিলা দল আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতনে দীর্ঘ তিন বছর কারারুদ্ধ হয়ে আছেন। তিনি এখন অত্যন্ত অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
তিনি বলেন, সবাই জানেন, বেগম জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পোস্ট কোভিডের অনেকগুলো জটিলতা দেখা দেয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আমি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যারা সম্পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে তার চিকিৎসা করছেন।
প্রতিদিন তার মেডিক্যাল বোর্ড করছেন, প্রতিদিন তার চিকিৎসার মনিটর করছেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, গতকাল চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনেছি, তার শরীরে টেম্পারেচার নেই, শ্বাসকষ্ট নেই। কিন্তু পোস্ট কোভিড জটিলতায় তার হার্ট ও কিডনি এফেক্টেড। এটা নিয়ে চিকিৎসকেরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, চিন্তিত।
বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, তার পরিবারের পক্ষ থেকে যখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, যদিও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, উন্নত দেশে এ ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে, যেগুলোর মাধ্যমে তার চিকিৎসা সম্ভব, যেটা এই দেশে নেই। সেই কারণে বারবার করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের সরকার আবেদনে সাড়া দেয়নি। তারা মনে করে, বেগম জিয়া যদি দেশের বাইরে যান, তাহলে আবার তিনি তাদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করবেন। ভয়টা কেন, ভয়টা এ কারণেই এদেশের জনগণের যে নেতা, সেটা তিনি। তিনি গণতন্ত্রের শেষ আশ্রয়স্থল’বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার সাংবাদিকদের শিক্ষা দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব বলেন, রোজিনাকে কারাগারে প্রেরণ করে সরকার সব সাংবাদিকদের শিক্ষা দিতে চায় যে, বেশি লাফালাফি করা যাবে না। এই দানব সরাতে হবে, দেশকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এখন দেশের আমলারাও সরকারি দলের নেতা। তারা প্রকাশ্যেই দেশ চালানোর কথা বলেন, রাজনীতি করেন। আর আওয়ামী লীগ সরকার এই অবস্থা তৈরি করার জন্য দায়ী। তারা আইন, বিচার, শাসন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য- সব খাত ধ্বংস করেছে।
ফখরুল বলেন, দেশে এখন দুইটা দানব আছে- করোনাভাইরাস ও আওয়ামী লীগ সরকার। ‘এই দুইটা মিলে দেশকে ধ্বংস করছে। আওয়ামী লীগ দানব দেশের ৫০ বছরের অর্জন লণ্ডভণ্ড ও ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যই হচ্ছে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেওয়া। যে কারণে স্বাধীনতার পরেই বাকশাল কায়েম করার মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রের জন্য, যে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেটা ধ্বংস করে বাকশাল গঠন করেছিল।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ভয়েস/জেইউ।