মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
পাকিস্তানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং নারীশিক্ষা অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই (২৪) একজন সুদর্শন প্রগতিশীল ইংরেজ ব্যক্তির পরিবর্তে একজন পাকিস্তানি পুরুষকে বিয়ে করায় হতাশা প্রকাশ করে গত মঙ্গলবার টুইটারে একটি পোস্ট করেছিলেন বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা তার টুইটার টাইমলাইনে পোস্ট করেছেন, ‘মালালা একজন পাকিস্তানি ছেলেকে বিয়ে করেছে জেনে বেশ হতবাক হয়েছি। তার বয়স মাত্র ২৪। আমি ভেবেছিলাম সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে গেছে, সে অক্সফোর্ডে একজন সুদর্শন প্রগতিশীল ইংরেজ পুরুষের প্রেমে পড়বে এবং তারপর ৩০ বছর বয়সের আগে বিয়ে করার কথা ভাববে না। কিন্তু……’।
এরপর তার ওই পোস্ট নিয়ে ফেসবুক-টুইটারে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকে তসলিমা নাসরিনের নিন্দা করেন। তারই জবাবে আজ শুক্রবার তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক পেজে আরেকটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি মালালা ও তার সমর্থকদের আরেক দফা কড়া সমালোচনা করেন। তসলিমা নাসরিন শুক্রবার তার ফেসবুকে লিখেছেন…
এ বছরের জুলাই মাসে মালালা বলেছিল বিয়েতে সে বিশ্বাসী নয়, সে বুঝতেই পারেনা লোকে কেন বিয়ে করে, বলেছিল ভালোবাসলে বিয়ে কেন, লিভ ইন সম্পর্ক করলেই তো পারে। সেই মালালা ঠিক তিন মাস পর নভেম্বরেই বিয়ে করে বসলো। সে কি প্রেম করে বিয়ে করলো নাকি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, কে জানে!
ভেবেছিলাম মেয়েটি অক্সফোর্ডে পড়তে গিয়েছে, সেখানে একসময় পিএইচ ডি করবে, ডক্টরেট করবে। মেয়েটি তো মেয়েদের শিক্ষার কথাই বিশ্ব জুড়ে বলেছে। কট্টর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের বেশিদূর পড়তে দেওয়া হয় না, সেখানে সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে সে মেয়েদের প্রেরণা হবে। নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে, স্বনির্ভর হয়ে মেয়েদের সে উৎসাহিত করবে। মালালা যে সুযোগ পেয়েছিল সে সুযোগ তো পৃথিবীর অধিকাংশ মেয়ে পায় না। সুযোগের সদব্যাবহার সে করতে পারতো। সে তো শুধু পাকিস্তানের সোয়াত ভ্যালির বালিকা মালালা ছিল না, সে ছিল দুনিয়ার কোটি বালিকার আইকন। কী শিখবে তারা মালালার কাছ থেকে! মেয়েরা যে সমাজে বাল্য বিবাহের শিকার, অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়, পরনির্ভর জীবন মেনে নিতে বাধ্য হয় — সেই সমাজকে বদলে দিতে পারতো মালালা, কিন্তু সে চেষ্টা কি সে করলো!
ভেবেছিলাম মালালা যেহেতু বুদ্ধিমতী, সে কোনও স্মার্ট হ্যান্ডসাম প্রগ্রেসিভ যুবকের সঙ্গে প্রেম করে তার পছন্দের লিভ ইন সম্পর্ক করবে। যেহেতু ইংরেজের দেশে থাকে, কোনও ইংরেজের সঙ্গেই হয়তো।নিজে অক্সফোর্ডের অধ্যাপক হয়ে অক্সফোর্ডের আরেক অধ্যাপকের সঙ্গেই হয়তো। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রি না নিয়েই মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করে বসলো মালালা, তাও এক পাকিস্তানি মুসলিমকে! ওমা, যেইনা আমি টুইটারে আমার বিষ্ময় প্রকাশ করেছি, আমাকে ছিঁড়ে খাচ্ছিল হাজারো তালিবান এবং তালিবান পন্থী লোকেরা। সে কী কটাক্ষ মানুষের! ছি ছিঃ, সাদাকে বিয়ে করবে, ইংরেজকে বিয়ে করবে, ছি ছিঃ। কেউ কেউ বললো পাকিস্তানিদের মধ্যে কি প্রগতিশীল নেই? বলি নিশ্চয়ই আছে, স্মার্ট হ্যান্ডসাম প্রগ্রেসিভ তো ইমরান খানই ছিলেন! এক ইহুদি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন! সেই মেয়েকে তো তারপর ইসলাম গ্রহণ করালেন, এখন বাস করছেন এক নিকাবওয়ালির সঙ্গে, চোখ ছাড়া যার আর কিছু দেখা যায় না, যাকে চেহারা না দেখেই ইমরান খান বিয়ে করেছেন, ভবিষ্যত বলে দিতে পারেন মহিলা, এই বিশ্বাস তাঁর।
সাদাকে, ছিঃ সাদাকে কেন বিয়ে করবে মালালা ছিঃ। ছিঃ ছিঃ তে আমার টুইটার ভেসে গেল। কী! এই বর্ণবাদীরা ভুলে গেছে সাদারাই মালালাকে বিখ্যাত বানিয়েছে! সাদারা তার চিকিৎসা করেছে, জীবন বাঁচিয়েছে, সাদারা তাদের দেশে তাকে শুধু নয়, তার পুরো পরিবারকে সারা জীবনের জন্য স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে বাস করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে, সাদারা বই লিখে দিয়েছে, ফান্ড গড়ে দিয়েছে, সাদারা নিরাপত্তা দিয়েছে, নিশ্চিন্তি দিয়েছে, নোবেল দিয়েছে। সাদারা সব দেবে, কিন্তু কোনও সাদার সঙ্গে প্রেম করা চলবে না, সাদাকে বিয়ে করা চলবে না। এমন অলুক্ষুণে কথা যে উচ্চারণ করবে, তাকে পায়ে পিষে মারো, তার মুখে বিষ্ঠা ছুড়ে মারো, আইডিতে রিপোর্ট করো, আইডি ব্যান করো। কাল থেকে এই মব -হামলার শিকার হচ্ছি।
মালালা যদি পড়াশোনা আর চালিয়ে না যায়, আমি অবাক হবো না। যদি কিছুদিন পর বোরখা পরে, অবাক হবো না। যদি স্বামীকে তালাক দেয়, তাতেও অবাক হবো না।
ভয়েস/আআ