রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ:গোটাবাইয়াকে ধরো

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

দেশ ছেড়ে পালিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে। দেশের মাটিতে থেকে ক্ষমতা ছাড়ার ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। কারণ, দেশের মানুষের সঙ্গে তিনি যা করেছেন, তা হয়তো শ্রীলঙ্কানরা কখনো ক্ষমা করতে পারবে না। শুধু অর্থনৈতিক দুর্দশা কিংবা শ্রীলঙ্কাকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার কলঙ্কই বয়ে বেড়াচ্ছেন না রাজাপাকসে, তার হাতে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের রক্তও। শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন বেশ কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। তাই যারা অপেক্ষায় ছিলেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজাপাকসেকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে তাদেরকে হতাশই হতে হচ্ছে।

রাজাপাকসের পতন যদিও ছিল পুরোপুরি অসম্মানজনক। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের মতো ভয়াবহ অপরাধের শাস্তি এতো তুচ্ছ হতে পারে না। রাজাপাকসে নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিংহলি বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে তামিল সংখ্যালঘুদের রক্তাক্ত সংঘাতের সময় নির্বিচারে হত্যা করা হয় তামিলদের। তাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দুমরে মুচরে ফেলতে সেখানে সর্বোচ্চ নৃশংসতা চলেছে।

তামিলদের সঙ্গে বৈষম্য চলছে স্বাধীনতার পর থেকেই।

তখনই সিংহলীকে করা হয় দেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা। গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বঞ্চিত করা হয় তামিলদের। এক পর্যায়ে তামিলরা বাধ্য হয় স্বাধীনতা আন্দোলন করতে। কিন্তু অধিকার দেয়ার পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে গণহত্যার অভিশাপ।
গোটাবাইয়া যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তখন তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে দেশের প্রেসিডেন্ট। ২০০৫ সালে তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করেন মাহিন্দা। ফলে সরাসরি যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তার হাতে। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে কাজ করতেন গোটাবাইয়া। তখনই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযান চালাতে শুরু করেন তিনি। তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার ৪ বছরের মাথায় ২০০৯ সালে ২৬ বছরের এই সংঘাত শেষ হয়। এরফলে রীতিমতো জাতীয় বীরে পরিণত হন গোটাবাইয়া।

কিন্তু জাতিসংঘের হিসেবে, এই সংঘাতে কমপক্ষে ৪০ হাজার তামিল নিহত হয়েছেন। তবে এর আসল সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। সরকার যদিও এ জন্য তামিল টাইগারদেরই দায়ি করে। সরকারের দাবি, বিদ্রোহীরা বেসামরিক তামিলদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার কারণেই এত মানুষ মারা গেছে। কিন্তু এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত সরকারি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধকেই ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে। সেসময় পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ ছিল যে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত নির্বিচারে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বিচারে বোমা ফেলার কারণে হাজারো নিরপরাধ মানুষ জীবন হারিয়েছে। তিনি তামিল টাইগারদেরও অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

উইকিলিকসে প্রকাশিত এক নথি থেকে জানা যায়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বুটেনিস নিজেও সরকারের এই যুদ্ধাপরাধের কথা জানতেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এসব যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার উর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা জড়িত। এমনকি প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা এবং তার ভাইয়েরাও এর সঙ্গে রয়েছেন। এছাড়া আরও প্রমাণ রয়েছে যে, গোটাবাইয়া বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের পরিবারকে আত্মসমর্পণের পরেও হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তার নির্দেশে বেশ কিছু হাসপাতালে এবং বেসামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলা হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তামিল টাইগারদের পরাজিত করতে প্রয়োজনে বেসামরিক মানুষকেও হত্যা করা যাবে।

শ্রীলঙ্কা সরকার ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্যেও যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে সবসময় উদাসীনতা দেখিয়েছে। যুদ্ধের সময় তামিল বিদ্রোহীরাও বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটালেও শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সব ভয়াবহতাকে ছাপিয়ে গেছে। চাপে পড়ে একবার মাহিন্দা রাজাপাকসের সরকার একটি কমিশন গঠন করলেও তাদের প্রতিবেদনে সব দায় চাপানো হয়েছে তামিলদের ওপর। আবার শ্রীলঙ্কার আদালত বেসামরিক তামিলদের গলা কেটে হত্যার জন্য অল্প কয়েকজন সেনাকে শাস্তি দিলেও গোটাবাইয়া তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধের হোতাদের তিনি সেনাপ্রধান এবং জেনারেল পদেও উন্নীত করেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওই সেনাপ্রধান ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যাইহোক, শেষ পর্যন্ত সেই রাজাপাকসেদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। তাই এখনই সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া এবং তার পরিবারকে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করার।

ভয়েস /জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION