মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

বার্সেলোনার গোলশূন্য ড্র: হতাশ মেসি ভক্তরা

খেলাধুলা ডেস্ক:

মেসি-ভক্তরা আশায় ছিলেন হয়তো র‌্যামোন সানচেজ পিজুয়ানেই ৭০০তম ক্যারিয়ার গোল হয়ে যাবে তার। কিন্তু হলো না। মেসি কোনও গোল পেলেন না। বার্সেলোনা সেভিয়ার পোস্টে বলই ঠেলতে পারল না। গোল করতে পারেনি সেভিয়াও। ম্যাচটি তাই গোলশূন্য ড্র।

তবে শুক্রবার রাতে এই ফল চায়নি বার্সেলোনা। এতে দুই পয়েন্ট হারিয়ে চ্যাম্পিয়নরা কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সমান্তরালে এসে দাঁড়িয়েছে। ৩০ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৬৫, ২৯ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ৬২। নিজেদের হাতে শিরোপা-ভাগ্য গড়ার সুযোগটি হারিয়েছে কাতালানরা। রবিবার রিয়াল মাদ্রিদ যদি রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরে, সমান হয়ে যাবে পয়েন্ট।

আন্দালুসিয়ার গরমের মধ্যে (২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ম্যাচটি উত্তাপ ছড়িয়েছে শুরু থেকেই। বিরতির আগে তো চরমা উত্তেজনা। মেসি ধাক্কা দিতে দিতে ডিয়েগো কার্লোসকে মাটিতেই ফেলে দিচ্ছিলেন।

প্রথমার্ধের ৩০ মিনিট বার্সেলোনা খেলেছে বার্সেলোনার মতো। কিন্তু পানি পানের বিরতি দিয়ে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই খেলাটা ধরে নিয়েছে সেভিয়া। একেবারেই জায়গা দিতে চায়নি তারা বিখ্যাত প্রতিপক্ষকে। মাঝমাঠটাও নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। রক্ষণে তো ছিল দুর্ভেদ্য। মেসিকে হুল ফোটানোর সুযোগ দেয়নি। আর মেসিও যেন এ ম্যাচে কেমন নিষ্প্রভ ছিলেন। সেভিয়ার অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে শেষ পাসটা দিতে পারেননি। আসলে অ্যাটাকিং থার্ডে অনেকবার বল নিয়ে গিয়েও মেসি-সুয়ারেজ-ব্রাথওয়েট সমন্বিত আক্রমণভাগ নিখুঁত থাকতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়া ছিল পরিষ্কার ব্যবধানে শ্রেয়তর দল। ক্লান্ত-শ্রান্ত পায়ের বার্সেলোনার খেলায় ধার ছিল না। অভিজ্ঞতার জোরেই তখন সামলেছে সেভিয়াকে। এই অর্ধে গোলপোস্টে মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন না থাকলে অন্ততপক্ষে গোটা তিনেক গোল খেতে হতো বার্সেলোনাকে। ৫৪ থেকে ৫৭ মিনিট, তিন মিনিটের ব্যবধানে ওকাম্পোস ও মুনিয়েরের শট থেকে দুবার নিশ্চিত বাঁচিয়েছেন জার্মান গোলকিপার।

গতির সঙ্গে সেভিয়া যখন বার্সেলোনার এগিয়ে আসার জায়গা ভরাট করে আক্রমণে উঠেছে, মেসিরা শ্লথ গতিতে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছেন। বার্সেলোনা কোচ কিকে সেতিয়েন তবু আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামাননি। হয়তো বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড় মেসি-সুয়ারেজের ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছেন। তাই সেভিয়া কোচ হুলেন লোপেতেগি পাঁচটি বদল করলেও সেতিয়েন খেলোয়াড় বদলেছেন তিনজন-ব্রাথওয়েটের জায়গায় আর্থুর, ভিদালের জায়গায় গ্রিজমান এবং রাকিতিচের বদলে রিকি পুইজকে। তাও অসময়ে।

জানুয়ারিতে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে যাওয়ার পর সুয়ারেজ এই প্রথম খেললেন পুরো সময়। কিন্তু তার মধ্যে জড়তাটা বোঝা গেছে পরিষ্কার। খেলার শেষদিকে যে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, সুয়ারেজ স্বমহিমায় থাকলে তা থেকে গোল তিনি করতেনই এবং তাতে হযতো জয় নিয়ে ফিরতো বার্সেলোনা। তবে ম্যাচের সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেছেন সেভিয়ার রেগিলন। যোগ করা সময়ে, নির্দিষ্ট করে বললে ৯৩তম মিনিটে হাত মেলানো দূরত্ব থেকে স্টেগেনকে পরাস্ত করতে পারেননি সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়।

তবে সেভিয়ার দাপটের মধ্যেও বার্সেলোনার যে জেতার সুযোগ ছিল না তা নয়। মেসি চারটি ফ্রি-কিক নিয়েছেন গোলমুখে, তার তিনটি অবিশ্বাস্য তৎপরতায় বাঁচিয়েছেন সেভিয়া গোলকিপার ভাসিলিচ। প্রথমার্ধে জটলার মধ্যে দারুণ একটি গোলের সুযোগ হারিয়েছেন ব্রাথওয়েট। আর নয়টি কর্নার কিক আদায় করেও কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। কর্নার কিক অবশ্য তাদের শক্তিশালী দিক নয়, কিন্তু এরকম ম্যাচে এসব সেটপিস থেকেও গোল করতে না পারলে হতাশায় পুড়তে হয়।

সেই হতাশায় পুড়তে হচ্ছে এখন বার্সেলোনাকে। দুই দল সমান পয়েন্টে লিগ শেষ করলেও রিয়াল মাদ্রিদের হাতে উঠবে লা লিগা শিরোপা, কেননা হেড-টু-হেডে তারাই থাকবে এগিয়ে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION