বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্য গায়েব: নিরাপত্তার দাবিতে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

বিশেষ প্রতিবেদক:

টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্যের শতাধিক বস্তা পণ্য গায়েব হওয়ায় তোলপাড় চলছে। একারণে নিরাপত্তার দাবিতে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

আজ রবিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে ধর্মঘট চলছে স্থলবন্দরে। ফলে মিয়ানমার থেকে আসা সীমান্ত বাণিজ্যের ৩৫টি পণ্য বোঝাই কার্গোবোট জেটি ঘাটে আটকা পড়েছে। একারণে একদিনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে। পাশিপাশি জেটি ঘাটে আটকে থাকা কার্গোবোটে থাকা শত কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা বলছেন বন্দরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আজ রবিবার সকাল থেকে মিয়ানমার থেকে আসা টেকনাফ স্থলবন্দরে কোন পণ্যবাহি ট্রলারের মালামাল খালাস হয়নি। একইভাবে মিয়ানমার থেকে জলপথে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসা বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী কার্গো ট্রলার ও জাহাজ থেকে মালামাল ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আজ রবিবার বিকেল পর্যন্ত বন্দরে মিয়ানমার থেকে ৩৫ টি মালামাল বোঝাই কার্গো বোট মালামাল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব জাহাজ ও কার্গো বোটে কোটি কোটি টাকার পচনশীল পণ্য রয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিএন্ডএফ’ এজেন্ট সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমার থেকে ৭০০ বস্তা সুপারি ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসে। সাদ্দাম হোসেন, ফারুক ও শওকত নামের তিন ব্যবসায়ী এই মালামাল নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালামাল সহ কার্গো বোটটি বন্দরে এন্ট্রি করা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান ওইদিন রাতেই মালামাল সহ বন্দরের ঘাট থেকে কার্গো বোটটি উধাও হয়ে যায়। পরের দিন নাফ নদী থেকে ৫৭৪ বস্তা সুপারি ও ৮০ বস্তা কপি সহ একটি কার্গো বোট পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিজিবি।  টেকনাফ -২ ব্যাটালিয়নের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সদস্যরা পরে  মামলা দিয়ে পণ্যসহ কার্গো বোটটি টেকনাফ শুল্ক গুদামে জমা দেয়।

এ ঘটনাকে অন্যায় দাবি করে বন্দরের ব্যবসায়ী ও আমদানি প্রতিষ্ঠানসহ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আজ রবিবার সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয়। ফলে বন্দর থেকে কোন মালামাল খালাস হয়নি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রবিবার  বিকেলে স্থলবন্দরে উপজেলা প্রশাসন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ স্থলবন্দর কতৃপক্ষের কার্যালয়ে একটি বৈঠকে বসে। কিন্তু কোন ধরণের সমাধান না হওয়ায় ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান ৭০০ বস্তা সুপারি ও অন্যান্য পণ্য সহ কার্গো বোট বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দরে এন্ট্রি হয়। ঐদিন রাতে কার্গো বোটটি উধাও হয়ে যায়। পরে বিজিবি নাফ নদী থেকে ঐ কার্গো বোট উদ্ধার করে। তারা অভিযোগ করেন রাতেই ঐ কার্গো বোট থেকে শতাধিক বস্তা সুপারি চুরি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফ স্থলন্দরের ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল, খোলা জায়গা খাঁ খাঁ করছে। অন্যদিন এসব স্থান পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের দখলে থাকে। বন্দরে তেমন কোনো যানবাহন নেই। জেটিগুলো খালি পড়ে থাকলেও নোঙর করে রয়েছে পণ্যভর্তি একাধিক কার্গো ট্রলার ও জাহাজ।

ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর জানান, ‘সকাল থেকে কোন পণ্য উঠানামা হয়নি। এ নিয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। তিনি জানান বন্দরের জেটি ঘাট থেকে মালামাল সহ কার্গো বোট উধাও হওয়ার ঘটনা সত্যিই উদ্বেগ জনক। এ ঘটনায় মিয়ানমারের আকিয়াবের ব্যবসায়ীরা পণ্য রপ্তানিতে শংকা প্রকাশ করছে। তিনি অভিযোগ করেন বৃহস্পতিবার পণ্য সহ কার্গো বোট উধাও হয়ে গেলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

পণ্য আমদানি কারক সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, টেকনাফ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পণ্য সহ কার্গো বোট উধাও হয়ে গেছে। এমনকি কার্গো বোট থেকে শতাধিক বস্তা সুপারি ও অন্যান্য মালামাল চুরি  হয়ে যায়। এতে করে তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

বিকেলে বন্দর ভবনে বৈঠক শেষে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান টেকনাফ স্থল বন্দর ব্যবহারকারীসহ সকল পক্ষদের নিয়ে সভা হয়েছে। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই বন্দরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।

উখিয়া টেকনাফের সাবেক এমপি ও টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বদি জানান টেকনাফ স্থল বন্দর নিয়ে বিএনপি জামাতের একটা চক্র ষড়যন্ত্র করছে। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সম্প্রতি উঠে পড়ে লেগেছে। আগামী রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্য মুল্য বাড়ানোই এই চক্রের লক্ষ্য। তিনি জানান বন্দরের জেটি ঘাট থেকে মালামাল সহ কার্গো বোট উধাও এবং পণ্য চুরি হওয়ার ঘটনা রহস্যজনক। আজ রবিবার স্থল  বন্দরে ধর্মঘট হওয়ায় সরকার ৪ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো। তিনি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

স্থলবন্দরের শ্রমিক হেফজু রহমান বলেন, বর্তমানে স্থলবন্দরের জেটিতে বেশ কয়েকটি কার্গো ট্রলার ও জাহাজভর্তি মালামাল রয়েছে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি আদায়ের জন্য আজ সারা দিন কাজ বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকেরা। কারণ, মালামাল ওঠানামা না হলে অনেকের ঘরে চুলা জ্বলবে না।

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আনসার মো: কাওসার জানান পণ্যবাহী একটি কার্গো বোট উধাও হওয়ার ঘটনায় টেকনাফ থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করা হবে। তিনি জানান সিএন্ডএফ এজেন্টদের ধর্মঘট নিরসনের জন্য প্রশাসনসহ সকল পক্ষদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থলবন্দরের কাস্টমস সুপার লুৎফর হক বলেন, আজ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মবিরতি পালন করায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION