EDITOR
- ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ /

আবদুল আজিজ:
কক্সবাজারে একটি মৃত সামুদ্রিক কাছিমের ময়না তদন্ত করতে গিয়ে পেট কেটে বের করা হল ১০৯টি ডিম। এসব ডিম পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিকরা। তবে বৈজ্ঞানিকরা ময়না তদন্তে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে মৃত কাছিমটি উপকূলে ডিম পাড়তে আসার পথে জেলেদের জালে আটকা বা দুর্ঘটনা বশত মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে এসেছে মা কচ্ছপের মরদেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে অলিভ রিডলে প্রজাতির কচ্ছপটি উদ্ধার করা করেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের মা কচ্ছপটির দৈর্ঘ্য ৩ফুট ৩ ইঞ্চি ও প্রস্ত ২ ফুট ৩ ইঞ্চি। এর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। পেটে ১০৯টি ডিম ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে কচ্ছপটির দেহ ও ডিম গবেষণার জন্যে বোরির ল্যাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর পারভেজ জানান, বুধবার রাতে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কচ্ছপটি ভেসে আসার খবর দেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মৃত সামুদ্রিক কচ্ছপটি উদ্ধার করে বোরিতে নিয়ে আসেন।পরে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও সমুদ্র বিজ্ঞানী শিমুল ভুইয়া সহ একদল বিজ্ঞানী ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন।
বোরির মহাপরিচালক জানান, প্রজনন মৌসুম হিসেবে মা কচ্ছপটি ডিম পাড়তে সমুদ্র উপকূলে আসতে চেয়েছিল। এতে সাগরে কোন জলযান বা জেলেদের জালে আটকা পড়ে কচ্ছপটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কচ্ছপটির মৃত্যুর কারণে অনুসন্ধানের জন্য ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সমুদ্র উপকূলে ডিম পাড়তে এসে প্রায় সময় সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণি মারা পড়ছে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইনানী সৈকতের শফিরবিল এলাকায় একটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন ও কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে গত তিন মাসে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে অন্তত ৩০টি সামুদ্রিক কচ্ছপ মারা পড়েছে।
ভয়েস/আআ