মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
আবদুল আজিজ:
কক্সবাজারে ঘুর্ণিঝড় মোখার তান্ডবে পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাসা-বাড়িতে ফিরছে সাধারণ মানুষ। অথচ ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত এখনও বলবৎ রয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়া লোকজন বলছেন, ঘূর্ণিঝড় চলে গেছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাড়ি ফেরার নির্দেশনা দিয়েছেন। এজন্য তারা ফিরে যাচ্ছেন।
কক্সবাজার কুতুবদিয়া পাড়ার নুরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। গতকাল থেকে আশ্রয়ী কেন্দ্রে রয়েছি। আশ্রয়কেন্দ্রে নানা ধরনের সমস্যা হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের জন্য বাড়ি যেতে হবে।
একই এলাকার ইয়াসমিন জানান, চেয়ারম্যান মেম্বাররা তাদেরকে বাড়ি ফিরতে বলেছেন। এজন্য আমরা বাড়ি চলে যাচ্ছি। কারণ আশ্রয় কেন্দ্রের থাকার চেয়ে নিজের বাড়িতে থাকাই অনেক ভালো।

শুধু নুরুল ইসলাম ও ইয়াসমিন নয়, সাগরে বিপদ সংকেত থাকা সত্ত্বেও আরো অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে অধিকাংশ লোকজন বাসা-বাড়িতে চলে গেছে।
এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, সাগরে এখনও বিপদ সংকেত রয়ে গেছে। একারণে আশ্রয় নেওয়া মানুষদেরকে বাসা বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও তারা কেন চলে যাচ্ছে জানা নেই।
এদিকে, দিনব্যাপী তান্ডব শেষে শান্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় মোখা। কক্সবাজারের টেকনার সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ সহ উপকূলীয় এলাকায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবার সকাল ৯ টার দিকে এটি কক্সবাজার উপকুলে আঘাত হানে। ক্রমান্বয়ে বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। দুপুরের দিকে মোখা সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ এবং টেকনাফ উপকূলে তান্ডব চালায়। বাতাসের তীব্রতা সন্ধ্যা নাগাদ চলে। তবে সাগরে মরা কাটাল থাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়নি।
সন্ধ্যায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান এক ব্রিফিংয়ে জানান ঘুর্ণিঝড় মোখায় জেলায় ১০ হাজার কাঁচা বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শুধু সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের ১২ শ কাঁচা বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ায় সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সাবরাং এলাকায় গাছ পালা উপড়ে যায়। তবে মোখায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসক আরো জানান এটি একেবারেই প্রাথমিক হিসেব।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস প্রধান আবদুর রহমান জানান, আজ সন্ধ্যার পর থেকে ঘুর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কমতে শুরু করছে। তবে আগামী দুইদিন সাগর উত্তাল এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসশনের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী উপকূলের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র এবং স্বজনদের বাসা বাড়িতে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এসব আশ্রয় নেয়া মানুষ সংকেত কমে আসলে বাড়িতে ফিরবে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মোখার শুরুর আগে থেকে কক্সবাজার জেলায় সিসিপির ৮ হাজার ৬০০ জন এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ২ হাজার ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত ছিল। সেন্টমার্টিনে নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ ৩৭টি সরকারি স্থাপনা রয়েছে। তাই সেখানে সরকারি স্থাপনাগুলো সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য ২০ লাখ নগদ টাকা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ৫ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন চাল, ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন টোস্ট বিস্কুট, ৩ দশমিক ৪ মেট্রিক টন শুকনা কেক, ১৯৪ বান্ডিল ঢেউটিন, ২০ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন ও ৪০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখা হয়েছে। জেলায় যে ৬৩৬টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেগুলোতে ৫ লাখ ৫ হাজার ৯৯০ জন মানুষ থাকতে পারবে।
শনিবার সকাল থেকে মেডিকেল দল, কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনী, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক দল, স্কাউট দল, আনসার বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।
ভয়েস/আআ