মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
আবদুল আজিজ:
কক্সবাজারে কোরবানি পশুর হাট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশাল আকার ও ওজনের ‘রাজা’।চলন, আচরণ ও বেশভূষায় রাজসিক এ গরু দেখতে ভিড় করছেন ক্রেতাদের পাশাপাশি অনেক দর্শনার্থী। আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বিক্রি করতে রাজা’র দাম হাকা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে কয়েকজন ক্রেতা ৬ লাখ টাকায় কিনতে রাজী হলেও তা ভরণ-পোষণ আর লালন-পালনের ব্যয়ের সাথে সন্তোষজনক নয় বলে দাবি মালিকের।
কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার ‘আরসিজি এগ্রো’ খামার। শফিকুর রহমান ও তারেকুর রহমান নামের দুই ভাই মিলে গড়ে তোলেন বিভিন্ন গৃহপালিত পশুর এ খামার। তবে খামারটিতে রয়েছে গরু ও ছাগলের সংখ্যাধিক্য। সারা বছরই বিক্রি যোগ্য পশু হাটে তোলা হলেও এবার কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্যে দাম হাকা হয়েছে রাজসিক বেশভূষা, চলন ও আচরণের ‘রাজা’র।
গত ৩ বছর আগে এ খামারে জন্ম নেয় ‘অস্ট্রেলিয়ার প্রিজিয়ান’ প্রজাতির বাঁছুর রাজার।‘আরসিজি এগ্রো’র স্বত্ত্বাধিকারি তারেকুর রহমান বলেন, জন্মের পর থেকে খামারের অন্য বাঁছুরের চাইতে রাজার চলন আর অঙ্গ-ভঙ্গী ছিল অভিজাত্যের। বলা যায়, অনেকটা রাজসিক আচরণের কারণে নাম রাখা হয়- রাজা। এতে মালিক ও খামারের কর্মিদের বিশেষ আদর-যত্ন পেতে থাকে। গরম থেকে রেহায় পেতে ব্যবস্থা করা হয় বৈদ্যুতিক পাখার। প্রতিদিন সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে নিয়মিত গোসল করা হয়। আর খারার হিসেবে প্রতিদিন ৫ বেলা দেওয়া হয় সবুজ ঘাস, খৈল, খুঁড়া ও বিশেষ
ধরণের ভূষি। এতে খাবার ও বিশেষ আদর-যতœ বাবদ প্রতিদিনই খরচ পড়ে ১ হাজার ২০০ টাকার বেশী। পাশাপাশি নিয়মিত নজর রাখা হয় রাজার শারীরিক অবস্থার প্রতি। এতে জন্মের তিন বছরে রাজার আঁকার হয় সাড়ে ৮ ফুট লম্বা এবং সাড়ে ৫ ফুট
উচ্চতার।
এছাড়া ওজনে অন্তত ২৫ মণের বেশী। গরুসহ আরসিজি এগ্রো খামারে পালিত বিক্রিযোগ্য পশু সারা বছরই হাটে তোলা হলেও এবারের কোরবানিতে ৯ লাখ টাকা দাম হাকা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ক্রেতা ৬ লাখ টাকায় কিনতে সম্মত হয়েছেন। তবে খামারি বলছেন, গত ৩ বছরে রাজা লালন-পালন করতে যে ব্যয় হয়েছে তাতে ক্রেতাদের হাকানো দামে বিক্রি সম্ভব নয়। নুন্যতম ৯ লাখ টাকা পেলে বিক্রি করবেন।
এদিকে রাজসিক আচরণের রাজাকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পরম আদর-যতেœ লালিত পালিত রাজাকে এবারের কোরবানিতে বিক্রির কথা ভেবে আবেগ-আপ্লুত খামার মালিক ও কর্মীরা।
কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন কোরবানির পশুর বাজারের খোঁজখবর রাখছিলেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম সামস্ধসঢ়;। তিনি জানান, ‘রাজার আচরণ সত্যিই রাজার মত। রোববার স্থানীয় খরুলিয়া কোরবানির পশুর হাটে নেয়া হয় রাজাকে। সেখানে প্রচুর দর্শাণার্থী ভিড় করছেন। রাজার মত মাথা, কপালে, গলা ও পায়ে দেয়া হয় ব্যাস্লেটসহ নানা উপকরণ। এতে কালুর রঙের এই বিশাল গরুটি রাজার মত দেখাচ্ছে।’
কক্সবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন জানান, কক্সবাজারে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর অনেক বেশি পশুর যোগান রয়েছে। যা চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে পাঠানো সম্ভব হবে। গবাদিপশুকে যেন কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার না করে সেজন্য আমরা খামারি এবং ব্যক্তি পর্যায়ে প্রচারণা চালিয়েছি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ঈদুল আজহার প্রতিটি পশুরহাট মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এবারে কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার বাহির থেকে কোন পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। জেলার খামার ও বিভিন্ন কৃষকের ঘরে কোরবানি যোগ্য পশু মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬২২ টি এবং চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৯২৩ টি।
ভয়েস/আআ