সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
বার্তা পরিবেশক:
বহুল আলোচিত—সমালোচিত রাজাকার পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়ার নির্যাতন থেকে বাঁচতে কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহেশখালী পৌরসভার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষক সুপার মৌ. নেজাম উদ্দিন। গতকাল বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ জুলাই দুপর দেড়টার সময় লিডারশীপ হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় বসতঘরে হঠাৎ করে দলবল নিয়ে আক্রমণ করে।
বর্গি স্টাইলের এই আক্রমণে নারী পুরুষসহ অনেককে আহত করে। সেইদিন মেয়র মকছুদ মিয়ার হাত থেকে বাসার নারী—পুরুষ কেউ রক্ষা পায়নাই। প্রকাশ্যে ঘটা সেই দৃশ্য এলাকার সবাই দেখেছেন উল্লেখ করে বলেন, উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের আত্মীয় হওয়ার কারণে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে স্কুলকে জড়িয়ে শুধুমাত্র নির্যাতনের খায়েশ ও প্রতিশোধ নিতে তিনি মকছুদ মিয়া ধারাবাহিকভাবে এই নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি মকছুদ মিয়া, আবু বক্কর ছি্াদ্দও তাদের বাহিনীর মৃত্যু হুমকি নিয়ে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন। বর্তমানের বসতভিটার জায়গা তার নিজস্ব ও খরিদা সূত্রে উল্লেখ করে দৃঢ়ভাবে বলেন, মকছুদ মিয়া প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা করেনা। আইনগতভাবে মাপজোক করে সমাধান না করে জোর করে মাস্তানি স্টাইলে আদায় করার প্রক্রিয়াতে বুঝা যায় তার কুমতলব।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আমার সাথে আইনগত বিষয়ে পরাস্ত হয়ে শেষপর্যন্ত গোরকঘাটা স্কুলের ছাত্র—ছাত্রীদের দিয়ে একটি মানবন্ধন করেছে যা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো। ওই কথিত মানববন্ধনে যে সকল মিথ্যা আমার বিরুদ্ধে বলেছেন যেগুলো শুনলে হাসি পাবে। এসবের নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশাসনের কাছে পরিবার নিয়ে বাঁচার জন্য আইনী সহায়তা চান। সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তার নিকটাত্মীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মকছুদ মিয়াকে রাজাকারপুত্র, ভূমিদস্যু,জলদস্যু, মানবপাচারকারী ও ইয়াবাকারবারীদের মূলহোতা উল্লেখ করে বলেন, মকছুদ মিয়ার নির্যাতনের শিকার মহেশখালীর অনেক মানুষ হয়েছেন যা যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সারা পৃথিবী দেখেছেন। সে মহেশখালীর নারী—পুরুষ ও শিশুদের কাছে মহেশখালী দ্বীপের মানুষের কাছে একটি আতংকের নাম। তার অতীতের অপকর্ম যখন সবদিক দিয়ে বের হচ্ছে তখন নিরুপায় হয়ে মিথ্যা তথ্য ও আশ্বাসে কোমলমতি ছাত্রদের দিয়ে কথিত মানববন্ধন করেছে। কিন্তু প্রকাশে ঘটা অন্যায়,অপরাধ কি এভাবে ঢাকা যায়। যায়না বলে তিনি মনে করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দ্বীপের আতংক মকছুদ মিয়ার অপরাধ, জুলুমের কারণে তার সাথে এলাকার মানুষ নাই, জনগণ নাই যার কারণে জমি দখল নিতে স্কুল ছাত্র—ছাত্রীদের ব্যবহার করছে যা লজ্জাজনক।
দুই মামলায় যারা আসামী:
১। আইন শৃংখলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) আদালত, কক্সবাজারে দ্রুত বিচার মামলা নং ৪১/২০১৩ইং (মহেশখালী) মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন হেলালী বাদীর মামলায় আসামীরা হলেন,
১। মকছুদ মিয়া (৫০) ২। আবু বক্কর ছিদ্দিক (৫৫), ৩। মোঃ মামুন (৩৫), ৪। জাহাঙ্গীর প্রকাশ—বিলাই (৪০), ৫। মঈন উদ্দিন (৪০), ৬। শামসু উদ্দিন (৩৫), ৭। আয়োজুল্লাহ (৩০), ৮। বশির উদ্দিন (৩৩) ৯। মোঃ ফয়সাল (২৮) ১০। মাহাবাবুর রহমান (৩৫), ১১। মাহাবুবুর রহমা প্রঃ গিট্টু মাবু (২৮) ১২। আনোয়ার (৩০), ১৩। নেচার (২৫), ১৪। ফরিদ প্রঃ কালা ফরিদ (৩৩), ১৫। নাছির উদ্দিন প্রঃ শান্ত (২৬) ১৬। জসিম উদ্দিন (২৪), ১৭। একরাম মিয়া (২৯), পিতা—মৃত মোঃ জাকারিয়া ১৮। রিফাত উদ্দিন পুতিয়া (২৯), ১৯। বদিউল আলম (৩৫), ২০। সুজন দে (৩২),২১। গোলাপ শাহা (৩৫) ২২। গোলাম মাওলা (২৫), অজ্ঞাত নামা আরও ৮/১০ জন।
২। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং—২, কক্সবাজার সিপি মামলা নং ১৫৬/২৩ মামলায় আসামীরা হলেন, মকছুদ মিয়া, মঈন উদ্দিন, আয়োজুল্লাহ, ফরিদ প্রকাশ কালা ফরিদ। যেটির বাদী শফিকা বেগম নেজাম উদ্দিনের মেয়ে। দুই মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন বলে জানান ভুক্তভোগী নেজাম উদ্দিন।
জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিবৃতি:
বীর মুক্তিযোদ্ধ আমজাদ হোসেন ও তার আত্মীয়স্বজনের প্রতি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়ার ধারাবাহিক নির্যাতন ও সাম্প্রতিক কর্মকান্ডকে জুলুম, কান্ডজ্ঞানহীন এবং ক্ষমতার অপব্যহার উল্লেখ করে আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনী প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু সমাধান করার আশা ব্যক্ত করে এক বিবৃতি দিয়েছেন কক্সবাজার জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
বিবৃতিদাতার হলেন, মুক্তিযোদ্ধাকালীন কমান্ডার ও জয় বাংলা বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন, সাবেক জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের চৌধুরী, সাবেক অর্থ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ কুতুবী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলতাফ, সদর উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. শামসু, মহেশখালী উপজেলার সাবেক কমান্ডার সালেহ আহমদ, মহেশখালী উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন, মহেশখালী উপজেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার কাসেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিক কুমার নাথ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মধুসুদন দে, উখিয়া উপজেলা সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধ পরিমল বড়—য়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন। চকরিয়া উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি বশিরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা লকিয়ত উল্লাহ, পেকুয়া উপজেলা কমান্ডার মাষ্টার সাবের আহমদ ও টেকনাফ উপজেলা কমান্ডার জহির।
ভয়েস/জেইউ।