বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক, চকরিয়া:
চকরিয়া ও পার্বত্য বান্দরবনের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদে রদবদল করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন লামার স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক। আর চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজকে বদলী করে লামার উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক প্রশাসন ডা.মো. বেলায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনজারি তিন কর্মদিবসের মধ্যে ড: শাহবাজকে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে লামায় যোগদান করতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ৫জুলাই চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সেচ্ছাচারিতায় হাসপাতালের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বরাদ্দের প্রায় ১কোটি টাকা ফেরত যায়। যথাসময়ে সময়ে দুইবারে এ টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি ডাঃ মোহাম্মদ শাহবাজ। এ কারণে তাকে লামায় বদলী করা হয়েছে বলে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন উঠেছে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব পাওয়া ডা. মোহাম্মদুল হক বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জারি করা প্রজ্ঞাপনটি হাতে পেয়েছি। যেহেতু আমি আগেও চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চকরিয়াবাসীকে স্বাস্থ্যখাতে পরিপূর্ণ সেবা দিতে শতভাগ চেষ্টা করব।’
এদিকে বিভিন্ন গন মাধ্যমে চকরিয়া হাসপাতালের চিকিৎসা ও শৈল চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের কোটি টাকা ফেরৎ গেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের টনক নড়ে। এরপর কক্সবাজার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মো. আলমগীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শোকজ নোটিশ জারি করেন। এতে স্মারক প্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে কি কারণে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের চিকিৎসা ও শৈল চিকিৎসা সরঞ্জাম (এমএসআর) ক্রয় না করে কেন ফেরত প্রদান করেছে সেই বিষয়ে সু-ষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। যদি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ পাওয়ার পরও এম এস আর ক্রয় না করার ব্যাখ্যা চেয়ে ডা. মোহাম্মদ শাহবাজকে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। যদি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে ছয়টি গ্রæপের ৬টি সরঞ্জামের উপর প্রায় কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প কর্মকর্তা ও টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি। ২০২০ সালের মে মাসের ১১ তারিখ ঠিকাদাররা টেন্ডার আহŸান করেন। এতে অন্তত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও স্থানীয় মিলে ১০জন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সর্বনি¤œ দরদাতা না পাওয়া এবং কাগজপত্র সঠিক না অজুহাতে ওই টেন্ডার বাতিল করে হাসপাতাল টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি।
এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে আবারও দ্বিতীয় বারের মতো দরপত্র আহবান করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জুন আবারও টেন্ডার ড্রপ করেন ঠিকাদাররা। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। কিন্তু ওই টেন্ডারও নানা অজুহাতে বাতিল করে দেন হাসপাতাল মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প ফেরত চলে যায়।
ভয়েস/আআ