রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেললাইনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। আশা করছি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিছু কাজ বাকি থাকলেও রেললাইন ট্রেন চলাচলের উপযোগী হবে। আগামী ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ একটা ট্রেন দিয়ে ট্রায়াল রান করব। এরপর আগামী ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকালে কালুরঘাট সেতু এবং রেললাইনের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এরপর মন্ত্রী মোটর ট্রলিতে করে দোহাজারী স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন স্থাপিত রেললাইন এখন ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় প্রস্তুত। বহুল কাঙ্খিত চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর বহুল আলোচিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথকে ভবিষ্যতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই প্রকল্পটি আজকে পরিদর্শন করার জন্য এসেছি। কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি দেখার জন্য। আশা করছি ৩০ তারিখের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ হয়ে যাবে। দুয়েকটা স্টেশনের কাজ হয়ত বাকি থাকবে। তবে রেল চলাচলের জন্য উপযোগী হবে।
তিনি বলেন, আমাদের যে ইঞ্জিন ছিল, সেটি ১২ টনের। আমরা জানি যে, এই সেতু অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এটার স্ট্রেন্থ যাতে বাড়ানো যায়, সে কারণে আমরা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। কাজ চলমান। এই ব্রীজটি বাদ দিয়ে নতুন একটি ব্রীজ কালুরঘাটে হবে। যেটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা আশা করছি, আগামী বছর এ নতুন সেতুর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হবে। ডাবল লেইন মিটারগেজ এবং ফোর লেইনের সড়ক থাকবে একই ব্রিজের ওপর। কাজেই সেটি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্রিজটি যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি, সেভাবেই এটি তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রডগেজের ট্রেন এখন চালাতে পারছি না। ধীরে ধীরে এগুলোকে ব্রডগেজে রূপান্তর করব। আমরা খুব শিগগির চালাতে পারব না, কারণ মূল ফোকাসটা হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে। ঢাকার সঙ্গে যদি যাই, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত আমরা ডুয়েল গেজ করেছি। এদিকে আবার দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ করেছি। ভবিষ্যতে আবার দোহজারী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ করব। এরপর চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম পর্যন্ত আমরা ডুয়েলগেজ করব। ওইদিকে আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত আমরা ডুয়েলগেজ করব।
দোহাজারীতেও মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ সড়ক পথে এবং বিমানে কক্সবাজার যায়। মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ট্রেনে করে কক্সবাজার যাবে। সারাদেশে রেলপথ নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। কারণ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সবসময় সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং আরামদায়ক। এ জন্যই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের যাত্রীরা এর সুফল ভোগ করবে।
ভয়েস/জেইউ।