রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

দীঘিরঘোনা বিট অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বিট অফিসার রবিউলের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দিচ্ছেন ছনখোলা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী ভুইল্যা ও বশির আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সদর উপজেলার পিএমখালী রেঞ্জের দীঘিরঘোনা বিট অফিসার রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহাড় খেকোদের যোগসাজশে বিট কর্মকর্তা রবিউলের মৌখিক ট্রানজিট পাসের মাধ্যমে বনাঞ্চলের কাঠ, পাহাড় টিলাকাটা মাটি বালি পাচারের সুযোগ দিয়ে প্রতিদিন ঘুষ আদায় করেন হাজার হাজার টাকা।

স্থানিয়দের অভিযোগ, রবিউল ইসলামের অনিয়ম-দুর্নীতি আর ঘুষবাণিজ্যের কারণে গত এক বছরে উক্ত বনবিট এলাকা থেকে কোটি টাকা মূল্যের কাঠ পাচার হয়ে গেছে। ন্যাড়া হয়েছে সরকারি বনভূমি, শ্রেণী পরিবর্তন হয়েছে অসংখ্য পাহাড়/টিলা। এ ছাড়া বন বিভাগের জমি দখল, বিক্রি,বালি মাটি পাচারের সুযোগ দিয়ে বনখেকোদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা রবিউল ।

যে কারণে অবরুদ্ধ হন রবিউল:

প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে পিএমখালীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর বাড়ি গোপনে ভিডিও করতে গিয়ে ছনখোলা এলাকায় ১৪ অক্টোবর মোটরসাইকেলসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন বিট অফিসার রবিউল ইসলামকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে সংক্ষুব্ধ জনাত ও ভুক্তভোগীদের কাছে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে বিট কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ও ৯, ,১২,১৬ অক্টোবর ২০২৩, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন দাখিল করেন ভূক্তভোগী অসংখ্য মানুষ।

যত অভিযোগ তার বিরুদ্ধে:

অফিস সূত্রে জানাযায়, পিএমখালী রেঞ্জের আওতায় বিট অফিস রয়েছে ৫টি। তন্মধ্যে দীঘির ঘোনা বিট কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তার কর্মরত এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে ব্যাপকভাবে ঘুষ গ্রহণ করছেন। তার দায়িত্বরত বিট এলাকার বনসম্পদ বড় বড় গাছ, পাহাড় কাটা মাটি বালি বিক্রি, বনভূমির জমি জবরদখল, বিক্রি, পাকা আধাপাকা ঘর নির্মাণ, বনভূমির জমিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এক শ্রেণির মানুষকে অবৈধভাবে সুযোগ করে দেন তিনি।

অপরদিকে বনের জমি সংলগ্ন খতিয়ান ভুক্ত রেজিস্টার জমির উপর বহু বছর ধরে বসবাস করে আসা নিরীহ মানুষের ঘর-বাড়ি মেরামত করতে গেলেই ওই জায়গা বনের জমি দাবি করেন রবিউল। এরপর সেলামি হিসেবে দিতে হয় তাকে মোটা অংকের টাকা। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঠুকে দেন বন মামলা।অভিযোগে ছনখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীসহ ভুক্তভোগী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সত্যতা জানতে কথা হয় অভিযোগ কারীদের একজন মোঃ আলী সঙ্গে।এসময় মোঃ আলী বলেন, সে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী ছিলেন। বছর দুয়েক আগে দেশে এসে বাড়িতে একটি ঘরের কাজ করেন।বিট কর্মকর্তা রবিউল তার নির্মিত বাড়িটি বন বিভাগের দাবি করেন।এসময় তার ভোগ দখলে থাকা জমিটি বনের জমি নয় বিধায়, প্রমাণ স্বরূপ তার কবলা রেজিস্ট্রি দলিলও দেখানো হয়। এরপরও তার প্রতিপক্ষের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার নামে বনের জমি দখল, ঘর নির্মাণ ও গাছ কাটার মামলা ঠুকে দেন। এঘটনার ৫/৬ মাস পর গত ১৪/১০/২৩ তারিখ বিট কর্মকর্তা রবিউল তার বাড়িতে গিয়ে গোপনে মোবাইলের মাধ্যমে তার ঘরের ভিডিও ধারণ করছিল। সময় ঘরে থাকা তার স্ত্রী দেখতে পেয়ে ভিডিও করার কারণ জানতে চাইলে সে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ঘটনা জানতে পেরে রবিউলকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকার মানুষ।

উক্ত ঘটনা সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও বার্তায় জোর প্রতিবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ আলীকে বলতে দেখা গেছে, পাহাড় খেকো জামাল উদ্দিন ও অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া প্রকাশ বুইল্যা নামক ব্যক্তি থেকে টাকা খেয়ে তাকে বারবার হয়রানি করে যাচ্ছে এই রবিউল।এই দুর্নীতিবাজ রবিউলের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিট কর্মকর্তার অবৈধ পথে কামানো অর্থের একটি অংশ রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুলের পকেটে যায়। একারণেই বিট কর্মকর্তা রবিউল প্রকাশ্য ঘুষ দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়না।

জানতে চাইলে দীঘি’র ঘোনা বিট কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়।ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে জানাতে চাইলে বলেন, তিনি ঘুষ নেন না, তাকের জোর করে পকেটে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

ভয়েস/জেইউ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION