ঘূর্ণিঝড় হামুনের তান্ডবে জানমালের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালার। কক্সবাজার শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালার ক্ষতি হয়েছে বেশি। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।
মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ঘূর্ণিজড়ে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। কারণ, নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় উপজেলা গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালার বেশি ক্ষতি হয়েছে। শুধুমাত্র কক্সবাজার শহরেই হাজার হাজার গাছ রাস্তার উপর ভেঙ্গে পড়ে আছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রাথমিকভাবে ঢেউ টিন ও নগদ টাকা পাবেন। আমরা খুব দ্রত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রশাসনের কোন গাফেলতি ছিল না। ঘূর্ণিঝড় হামুনের পূর্বাবাস আমরা আগে থেকে সতর্কতা বার্তা প্রচার করেছি। সেন্টমার্টিনদ্বীপ থেকে পর্যটকদের সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি। সত্যি বলতে কি এবারের ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার মুখী ছিল না। কিন্তু, হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে কক্সবাজারে আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে ঘূর্ণিঝড় হামুনের আঘাতে অচল হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। নেই বিদ্যুৎ, নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে সড়ক-উপসড়কে গাছ উপড়ে বন্ধ যানবাহন চলাচল। দেয়াল ও গাছ চাপায় প্রাণ গেছে ৩ জনের। আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক।
এসময় কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার খুইল্ল্যা মিয়ার ছেলে আবদুল খালেক (৪০), মহেশখালী এলাকার হারাধন দে (৪৫) ও চকরিয়া বদরখালী এলাকার জাফর আহমদের ছেলে আসকর আলী (৪৭)। আহত হয় শতাধিক।
শুধু এই সড়কই নয়; কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে উপড়ে পড়েছে বিশাল আকৃতির গাছ। বৈদ্যুতিক খুঁটিও উপড়ে পড়েছে সড়কে। ঘূর্ণিঝড় হামুনের আঘাতে কক্সবাজার শহরের পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও একই অবস্থা। চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ।
ভয়েস/আআ