শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের পর্যটনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘কীভাবে পর্যটনের উন্নয়ন হবে? কারণ কক্সবাজারে ১২ লাখ রোহিঙ্গা আছে। হিসাব করলে স্থানীয়দের তুলনায় তারা দ্বিগুণ। কক্সবাজারে পরিবহন খাতেও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নানা জায়গায় রোহিঙ্গা শ্রমিকরা প্রবেশ করছে।’ তারা নানান অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজারের শৈবাল হোটেলে আয়োজিত ‘কক্সবাজার: আশা প্রত্যাশার পর্যটন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।
জসিম উদ্দিন ২বক্তব্য দিচ্ছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী
সম্প্রতি নিজের এক ত্যক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কক্সবাজারের সঙ্গে নতুন রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে। এখন রেলপথ হয়ে অনেক পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। তাদের যেন এখানকার হাজারো টমটম (ইজিবাইক) চালকের হাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য আমরা ৩০০ টমটম চালকের ডাটাবেজ তৈরি করেছি। একটি তালিকার মাধ্যমে আমরা মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম। এতে করে আমি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছি।’
তিনি পর্যটনের উন্নয়নে স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি উদিসা ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ও হোটেল কল্লোলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হাসান ও কক্সবাজার জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার বিচ বাইক মালিক সমবায় সমিতি সভাপতি আনোয়ার ইসলাম হিরু ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল, কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।
কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের দুই দিনের আয়োজনে প্রথম দিন সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ‘সৈকত থাকুক পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালন করা হয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এদিন লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বর্জ্য সরানোর কাজে অংশ নেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
দুই দিনের এই আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা করেছে বিকাশ। কর্মসূচির এয়ারলাইন পার্টনার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নলেজ পার্টনার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বেভারেজ পার্টনার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এবং হসপিটালিটি পার্টনার হোটেল কল্লোল। স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনায় ছিল স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠন ইয়াসিদ।
ভয়েস/জেইউ।