বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ

আবদুল্লাহ নুর:
এখন গ্রীষ্মকাল। গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ সবাই। তীব্র তাপপ্রবাহে হাহাকার করছে প্রাণিকুল। রোদের প্রখরতায় ফেটে চৌচির মাঠ-ঘাট। গাছপালা তরুলতা নুয়ে পড়ছে রৌদ্রতাপে। এক পশলা বৃষ্টির আশায় সবাই মুখিয়ে আছে আকাশ পানে। রাসুল (সা.) এমন তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে এবং বৃষ্টির প্রত্যাশায় নির্দেশ দিয়েছেন ইসতিসকার নামাজ আদায়ের।

ইসতিসকার নামাজ : বৃষ্টি বর্ষণের প্রার্থনা করার জন্য আদায়কৃত নামাজকে ইসতিসকার নামাজ বলে। এই নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। সূর্যের তাপমাত্রা যখন প্রখর হয় এবং বেড়ে যায় গরমের তীব্রতা, তখন শীতল আবহের জন্য ইসতিসকার নামাজ আদায় করতে হয়।

ইসতিসকার নামাজের পদ্ধতি : ইসতিসকার নামাজ পড়ার জন্য ইমাম একটি দিন নির্ধারণ করবেন। সেই দিন তিনি সব লোককে নিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে খোলা প্রান্তরে যাবেন। সেখানে আজান ইকামত ছাড়া দুই রাকাত নামাজ পড়বেন। নামাজে উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পাঠ করবেন। নামাজের পর খুতবা দেবেন। খুতবার পর কেবলার দিকে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করবেন। সবাই বসে বসে আমিন বলবেন। টানা তিন দিন ইসতিসকারের জন্য বের হওয়া মুস্তাহাব। -দারুল উলুম দেওবন্দের মুস্তাফাদ ফাতাবি ৫/২৩৮, ২১৪

রাসুল (সা.)-এর ইসতিসকার নামাজ : রাসুল (সা.)-এর যুগেও বিভিন্ন সময় অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম রাসুলের কাছে এর সমাধান চাইলে রাসুল (সা.) ইসতিসকার নামাজ আদায় করতেন। হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ ইবনে আসিম (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ঈদগাহে গেলেন, বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন, কেবলার দিকে মুখ করলেন, চাদর পাল্টালেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। -সহিহ মুসলিম ১৯৪৪

ইসতিসকার দোয়া : ইসতিসকার নামাজে একটি দোয়া বেশ কার্যকর। রাসুল (সা.) নিজেও পড়েছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, লোকজন রাসুল (সা.)-এর কাছে অনাবৃষ্টির কষ্টের কথা বললে রাসুল (সা.) ঈদগাহে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে এই দোয়াটি পড়লেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াউমিদ্দিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এফয়ালু মা ইউরিদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল গানিয়্যু ওয়া নাহলুল ফুকারাউ। আনজিল আলাইনাল গাইছা ওয়াজয়াল মা আনজালতা লানা কুওয়্যাতান ওয়া বালাগান ইলা হিন।’ অর্থ : সব প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময়, দয়ালু এবং শেষ বিচারের মালিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র মাবুদ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি ধনী, আমরা গরিব। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করো এবং আমাদের জন্য যা অবতীর্ণ করো, তা আমাদের জন্য শক্তি ও কল্যাণময় করো।’ অতঃপর আল্লাহর হুকুমে বৃষ্টি বর্ষণ হতে শুরু করে। বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষের ছোটাছুটি দেখে রাসুল (সা.) হেসে ফেলেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION