বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
সেনাবাহিনীর অবসরগ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ৭দিনের রিমান্ডের আদেশপ্রাপ্ত আসামী চার পুলিশ সদস্য এবং ওই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জেলা কারাগার থেকে র্যাবের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (১২ আগস্ট) এসব আসামীদের বিরুদ্ধে ৭দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রিমান্ড প্রাপ্ত জিজ্ঞাসাবাদের যাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে তারা হলেন, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া এবং পুলিশ দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ।
সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় আটক কারাগারে থাকা পুলিশের ৪ সদস্য ও অপর একটি মামলার (স্বাক্ষী) তিন আসামীসহ মোট ৭জন আসামীকে কারাগার থেকে র্যাব হেয়াজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিক্ষা করানোর কথা রয়েছে।

গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তক কমিটি গঠন করা হয়। ৫ আগস্ট ওসি প্রদীপ ও দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামি করে সিনহার বোন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৯ পুলিশ সদস্যকেই বরখাস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে কক্সবাজার র্যাব-১৫। ওই মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৩ জনকে ৭ দিনের রিমান্ড ও অন্য আসামিদের দুদিন করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত। ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি এখনও কারাগারে রয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৯ আগস্ট সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ ও ১০ আগস্ট সাহেদুল ইসলাম সিফাত জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন স্বাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ, পুলিশের চার সদস্য ও ওসি প্রদীপসহ মোট ১০জন কারাগারে রয়েছে।
ভয়েস/আআ