রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:০৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
সোমবার থেকে সেন্টমার্টিন যাবে পর্যটকবাহী জাহাজ, থাকছে রাত্রিযাপনের সুযোগ গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদ মেজর সিনহা হত্যার পূর্ণাঙ্গ রায়: সিনহার বুকের বাম পাঁজরে জুতা পরা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন প্রদীপ কুতুবদিয়ায় সড়কে লবণ ফেলে কাফনের কাপড় পড়ে চাষীদের প্রতিবাদ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে কমনওয়েলথের সমর্থন চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা সরকার জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে: হাইকোর্ট পরবর্তী সরকার সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইনের পথ থেকে ফিরে আসবে: অ্যাটর্নি জেনারেল  নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখতে পাচ্ছি না : নাগরিক পার্টি  জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী ভাইরাল বক্তব্য প্রসঙ্গে যা বললেন শাপলপুরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একজনের মৃত্যু

গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদ

মুফতি মাহবুব হাসান:
মানুষের জীবনে কিছু বিষয় থাকে নীরব ও ব্যক্তিগত। সেই নীরবতার ভেতরেই নিরাপত্তা জন্ম নেয়, আস্থা গড়ে ওঠে, সম্পর্ক দৃঢ় হয়। ইসলাম এই নীরবতার মর্যাদা রক্ষা করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ অপ্রয়োজনে কথা ফাঁস হলে বিপদ ঘনিয়ে আসে, পরিকল্পনা নষ্ট হয়, সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সমাজের শান্তিও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য থেকে পারিবারিক সম্পর্ক, স্বপ্নের বিবরণ থেকে কারও অর্পিত কথা, জীবনের নানা ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা ইসলামে নৈতিকতার অপরিহার্য অংশ। গোপনীয়তা মানুষকে সুরক্ষা দেয়, সম্মান রক্ষা করে এবং সমাজে বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যরে অবকাশ তৈরি করে। এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

নিজেকে নিরাপদ রাখা : নিজের সব তথ্য অন্যের কাছে ফাঁস করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এতে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যেসব বিষয় মানুষের কাছে ফাঁস করলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো গোপন রাখাই ইসলামের শিক্ষা। ইয়াকুব (আ.) তার পুত্র ইউসুফ (আ.)-কে ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচার জন্য তার স্বপ্নটি অন্যদের থেকে গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, ‘সে (ইয়াকুব) বলল, হে আমার পুত্র (ইউসুফ), তোমার স্বপ্নের বৃত্তান্ত তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা কোরো না। করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা ইউসুফ ৫)

জীবনের পরিকল্পনা : জীবনে কোনো কিছুর পরিকল্পনা করলে অথবা ভবিষ্যৎ কোনো লক্ষ্য ঠিক করলে আগেভাগেই তা প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ আপনার পরিকল্পনা জেনে যাওয়ার পর অনেকেই সেই পরিকল্পনা হাইজ্যাক করার চেষ্টায় মেতে উঠতে পারে অথবা আপনার সেই পরিকল্পনাকে ধূলিসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগতে পারে। মুয়াজ ইবন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রয়োজন পূরণে সফলতা অর্জনের জন্য তা গোপন রেখে (আল্লাহর কাছে) সাহায্য প্রার্থনা করো। কারণ প্রত্যেক নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিংসার শিকার হয়।’ (তাবারানি)

খারাপ স্বপ্ন : স্বপ্ন সাধারণত তিন প্রকার। এক. ভালো স্বপ্ন, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়। দুই. খারাপ স্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে প্ররোচনামূলকভাবে দেখানো হয়। তিন. মানুষের চিন্তা-চেতনার কল্পচিত্র, যা স্বপ্নের আকারে প্রকাশ পায়। খারাপ স্বপ্ন দেখলে তিনবার বাঁ দিকে থুথু নিক্ষেপ করবে, স্বপ্নের ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে, পার্শ্ব পরিবর্তন করে ঘুমাবে, ঘুম ভেঙে গেলে উঠে দুই রাকাত নামাজ পড়বে এবং অন্যের কাছে তা প্রকাশ করবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তাহলে উঠে নামাজ পড়বে এবং মানুষদের কাছে তা বর্ণনা করবে না।’ (সহিহ মুসলিম)

পরিবারিক গোপন বিষয় : স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, ঝগড়া-বিবাদ বা ঘরোয়া বিষয় গোপন রাখতে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। পারিবারিক জীবনের একান্ত গোপন বিষয়গুলো অন্যের কাছে ফাঁস করা নিকৃষ্ট অপরাধ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তি হবে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম পর্যায়ের, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মিলিত হয়, অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম)

অন্যের গোপন কথা : অন্য ভাইয়ের আমানতস্বরূপ বলা কথাগুলো কারও কাছে ফাঁস করার অনুমতি নেই। সম্পদের মতো কথাও আমানত। তবে যদি তা অন্য কারও বড় ধরনের ক্ষতি করার নীলনকশা হয়, তাহলে অন্যের কল্যাণের জন্য তা প্রকাশ করা জরুরি হয়ে যায়।

সামাজিক গোপনীয়তা রক্ষা করা : মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক গোপনীয়তা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাউকে ছোট করা বা অপমান করার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত দোষ প্রকাশ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারও দোষ প্রকাশ না করে তা গোপন রাখার ফলে ওই ব্যক্তি তার ভুল সংশোধনের সুযোগ পায়। তার ভুল সবার সামনে প্রকাশ হয়ে গেলে সে লজ্জিত ও হতাশ হয়ে পড়তে পারে এবং সংশোধনের আগ্রহ হারাতে পারে। অবশ্য যদি কোনো ব্যক্তি কোনো গুরুতর অপরাধ করে বা সমাজের ক্ষতি করে, সে ক্ষেত্রে তার বিষয়টি কর্র্তৃপক্ষের কাছে জানানো প্রয়োজন হতে পারে। কারণ এতে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ জড়িত থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগত দোষ, যা অন্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, সেগুলো গোপন রাখাই ইসলামে উত্তম বলে বিবেচিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন করে, আল্লাহ তার দোষত্রুটি দুনিয়া ও আখেরাতে গোপন করবেন। আর আল্লাহ তার বান্দার সহায় থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম)

দান-সদকা : দান-সদকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি শুধু দরিদ্রদের সাহায্য করাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য মাধ্যম। এই দান-সদকা গোপনে হওয়া অতি সমীচীন বিষয়। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা গোপনে দান করো, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম।’ (সুরা বাকারাহ ২৭১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন মহান আল্লাহ সাত ধরনের মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, যে ব্যক্তি গোপনে এমনভাবে সদকা করে যে তার ডান হাত যা দান করে বাঁ হাত তা জানতে পারে না।’ (সহিহ বুখারি)

ইসলামে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করার নির্দেশনা রয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত বিষয়, জীবনের পরিকল্পনা, পারিবারিক গোপনীয়তা, অন্যের আমানতস্বরূপ বলা কথা, এমনকি গোপনে দান-সদকা করা, এ সবই নৈতিকতা ও চারিত্রিক সৌন্দর্যের অংশ। এই নীতিগুলো মেনে চললে নিজেদের যেমন বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়, তেমনি একটি সুস্থ, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করা যায়। মহান আল্লাহ আমাদের যথাযথভাবে আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার

ভয়েস/আআ/সূত্র:দেশরূপান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION