রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে’ রেজুখালে গোসলে নেমে কিশোরের মৃত্যু সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে মৌসুমের প্রথম যাত্রা: ৮ শতাধিক পর্যটকের উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পেল প্রবাল দ্বীপ টেকনাফে ১১ লাখ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার হরমুজের কাছে ২টি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের ঝলমলে ত্বকের জন্য ঐশ্বরিয়ার ভরসা মাত্র তিন অভ্যাস যে মোরগের লেজের পালকের দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট ঘুরতে যাবেন? জেনে নিন ২০২৭ সালে লম্বা ছুটি পড়বে কোন কোন মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে, জানালো ইরান

‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে’

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে এক বাংলাদেশ হয়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে কথা বললে বাংলাদেশের অবস্থান, নেগোসিয়েশন ও ডায়ালগ আরও জোরদার হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক নীতি সংলাপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের দুই মেয়াদেই মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন হয় এবং অধিকাংশ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যায়।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় জাতিসংঘ, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে জাতিসংঘ অনেক বেশি দায়বদ্ধ ছিল। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে অনবোর্ড করতে পেরেছিলেন এবং চীন ও ভারতের মতো প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন আদায় করতে পেরেছিলেন।

গত ১৭ বছরের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা যখন আসতে শুরু করে, তখন তৎকালীন সরকার প্রথম কয়েকদিন তাদের ঢুকতেই দিতে চায়নি। তারা নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছিল। তখন লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বিবৃতি দিয়ে মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি স্থায়ী সমাধান নয়, এটি সাময়িক সমাধান।

শামা ওবায়েদ বলেন, তৎকালীন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। চুরি-ডাকাতি করে এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় তাদের সেই শক্ত অবস্থান ছিল না। পায়ের নিচে মাটি শক্ত ছিল না বলেই তারা মাথা উঁচু করে, মেরুদণ্ড সোজা করে চীন, ভারত, মিয়ানমার বা আরাকান আর্মির সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারেনি।

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, গঠিত জাতীয় কমিটির আওতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলছে। একইসঙ্গে আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে এবং কথা বলা হচ্ছে। কারণ, এটি একটি রাজনৈতিক সমস্যা। শুধু কূটনৈতিক স্বাভাবিক চ্যানেলে সবসময় এর সমাধান হবে, এমনটা মনে করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে রাজনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত অস্থিতিশীল, এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বোঝে। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা মিয়ানমারের প্রতিটি আলাদা স্টেকহোল্ডারের ওপর চাপ তৈরি করে ঐকমত্য গড়ে তোলে। রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দেওয়ার যে ঐকমত্য মিয়ানমারে রয়েছে, সেটা বদলাতে হবে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশের নাগরিক এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

প্রথমত, গ্রহণযোগ্য প্রত্যাবাসন কাঠামো প্রণয়ন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দুর্ভাগ্যজনকভাবে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। সেই প্রক্রিয়া দ্রুততর করার কৌশল থাকতে হবে। একইসঙ্গে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ন্যূনতম শর্তগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সমন্বিত কূটনৈতিক রোডম্যাপ। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় করতে হবে। রাখাইন রাজ্যের ভেতরে সুরক্ষা ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাধ্য করতে হবে।

তৃতীয়ত, আশ্রিত জনগোষ্ঠী ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। মানবিক সহায়তা তহবিল অপ্রতুল। ক্যাম্পে নারী, শিশু ও তরুণ-তরুণীদের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য যথেষ্ট তহবিল প্রয়োজন।

চতুর্থত, নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সহনশীলতা। টিকে থাকা নেতিবাচক পথগুলো ডালপালা মেলায় নানা ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ জন্ম নিচ্ছে। জবাবদিহিমূলক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ, সামাজিক সম্পৃক্ততা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও যুব সমাজের জন্য সুযোগ তৈরির কৌশল বের করতে হবে।

পঞ্চমত, অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। টেকসই প্রত্যাবাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে রাখাইনে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংঘটিত গণহত্যা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ তার নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বলতে তিনি গোটা বাংলাদেশকে বোঝেন। সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সবাই এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্যবদ্ধ থাকাটা খুবই প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আরও ভালো পরামর্শ এলে তা স্বাগত জানানো হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা সুস্বাস্থ্য ও মর্যাদা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাক, এটাই সরকার চায়। এ জন্য যেকোনও পরামর্শ জাতীয় কমিটি গ্রহণ করবে, আমলে নেবে এবং আলোচনা করবে। সংসদসহ বিভিন্ন ফোরাম ও প্ল্যাটফর্মে এই সমস্যা তুলে ধরে একসঙ্গে সমাধানের দিকে এগোনো সম্ভব।

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বহুবার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরেও রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সরকারপ্রধানই সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন প্রত্যাবাসন শুরু করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং ডায়ালগ চালিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য নীতি গবেষণা কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সরকার অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে এবং যেকোনও পরামর্শকে স্বাগত জানাবে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION