বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক, চকরিয়া:
চকরিয়ায় গরু চোর সন্দেহে এক রশিতে বেঁধে নির্যাতনের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য, চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এসময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। স্থানীয় জনতা গরু চোর আটক করলে সে পুলিশ ও ইউএনওকে ফোন দিয়ে সহায়তা করেছেন।
গত শুক্রবার ওই এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও পরে রশিতে বাঁধা অবস্থায় মা-মেয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম জানান, ‘আমার এলাকার স্থানীয় জনতা নারী সহ ৫জন গরু চোরকে হাতেনাতে আটক করে। পরে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসে। তখন আমি এলাকায় ছিলাম না। আমাকে আমার এলাকার লোকজন ফোন করলে আমি চকরিয়া থানার পুলিশকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করি। তখন পুলিশ আমার কার্যালয়ে এসে তাদের নিয়ে যায়। তাদের আমি কোনভাবে নির্যাতন করিনি এবং তাদের দেখেনি।’
চকরিয়া থানার ওসি/তদন্ত মিজানুর রহমান জানান, ‘নারী সহ গরু চোর সিন্ডিকেটের ৫ সদস্যকে এক কিলোমিটার ধাওয়া করে স্থানীয় জনতা আটকের খবরে পুলিশের একটিদল ঘটনাস্থলে পৌছে। এসময় ২ নারী ও ৩ পুরুষ সদস্যকে স্থানীয় ইউপি কার্যালয় থেকে আটক করে প্রথমে চকরিয়া হাসপাতাল ও পরে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে মা-মেয়েসহ চার জনের বাড়ি পটিয়ার শান্তির হাটে। অপরজনের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার লালব্রিজ এলাকায়।
চোর সন্দেহে কোন নারীকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে কিনা? জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এভাবে রশি বেঁধে নির্যাতন করে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি প্রথম অবস্থায় আমরা জানতে পারেনি। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত আসামীরাও অভিযোগ করেনি যে তাদের ব্যাপক নির্যাতনের কথা। বরং তারা যে গরু চোর করতে এলাকায় এসেছিল, সেটি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। আমরা শুধু বাদির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপি কার্যালয় থেকে পুলিশ তাদের নিয়ে এসেছে। পরে নির্যাতনের একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে নেয়।’
ওসির কাছে মামলার তথ্য জানতে চাইলে তিনি থানার বাইরে রয়েছে বলে জানায়। এক ঘন্টা পর বাদির নাম, মামলা নং ও আসামীদের পরিচয় দেয়া কথা বলে ফোন কেটে দেয় ওসি। পরে এক ঘন্টা পর এ প্রতিবেদক চকরিয়া থানার ওসি/তদন্ত মিজানুর রহমান, ওসি হাবিবুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এ প্রতিবেদক একাধিক সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে বাদির নাম মাহবুবুল আলম। তার বাড়ি চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাদা এলাকায়। মামলানং-২১/চকরিয়া থানা-২২ আগস্ট ২০২০ইং।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গরু চোর সন্দেহে প্রথমে স্থানীয়রা একদফা মা-মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। পরে হারবাং ইউপি ও গ্রাম পুলিশ মা-মেয়েকে এক রশিতে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে এসে পুনরায় নির্যাতন করে। নানা নির্যাতনের পর ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করে পুলিশ এনে সোপর্দ করা হয়।
ভয়েস/আআ