বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
টাইব্রেকারে চকরিয়াকে হারিয়ে আন্তঃউপজেলা গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন রামু শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ, কে জিতবে শিরোপা দেব-শুভশ্রী এক যুগ পর পর্দায় আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের প্রশান্তি হিজড়া ‘গুরুমাকে’ হত্যা করে আরেক নেত্রীর ঘরে আশ্রয়, জানালেন খুনের কারণ উখিয়া থানা ৪ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ: পুরস্কার নিচ্ছেন ওসি আতিকুর রহমান উখিয়ায় ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের অগ্রাধিকার এখন আর চলচ্চিত্র নয় কেন? আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ারের ৬টি স্মরণীয় ঘটনা আগে গোল দিয়েও মালয়েশিয়াকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশের মেয়েরা

খুনিরা ছেলেকে হত্যারপর বাড়ি ছাড়া করেছে, মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করছে, পুলিশ নীরব-রুবেলের পিতামাতা

মহেশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন করেন রুবেল হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এবং নিহত রুবেরের পরিবার।

আবুল বশর পারভেজ, মহেশখালী :

খুনিরা আমার ছেলেকে হত্যারপর আমাদের জাগিরাঘোনার বাড়ি ছাড়া করেছে, মিথ্যা অভিযোগে প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে , প্রায় দুই মাস পার হলেও কোনো আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে  কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ নিহত রুবেলের পিতামাতার।

আজ ২৬ আগস্ট মহেশখালী ‍উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এ বিকাল সাড়ে তিনটার সময় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুবেলের পুরো পরিবার রুবেলের খুনিদের হুমকিতে অনিরাপদ, আসামী গ্রেফতারে পুলিশি ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযোগ করে  আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো দাবী তুলেন নিহত মনোয়ার কায়ছার ছিদ্দীকী রুবেলের পরিবার এবং মহেশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নেতৃবৃন্দ।

নিহত রুবেলের মা মাসুদা খাতুন হতাশার সুরে অভিযোগ করে বলেন, “প্রায় দুইমাস হতে চলেছে কোনো আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ আসামীরা প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবারে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। হত্যা মামলা আপোষ না করায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে এমন  খবরও পাঠাচ্ছে। অথচ সেখানে পুলিশ নিরব। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো বলেন,  হত্যারপর আসামীদের ভয়ে জাগিরাঘোনার বাসায় থাকতে পারছিনা, এখন থাকতে হচ্ছে কালারমারছড়া বাসায়। তিনি শংকিত বলে উল্লেখ করে বলেন, ইতিমধ্যে ছোট ছেলে বড় মহেশখালী দিয়ে আসা যাওয়ার পথে  ইউপি সচিবের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। আরেক ছেলে শিক্ষক সোহেল কায়ছার প্রাণের ভয়ে উপজেলার ডরমেটরীতে রাত কাটায় অথচ আমার এবং আমার ছেলেদের  সব আছে কিন্তু কেড়ে নিয়েছে খুনিরা। আমার পরিবার এখন সর্বশান্ত। আমি এর বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক।”

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেলের পিতামাতার আহাজারি। ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে না পারলেও অন্তত ছেলের খুনিদের গ্রেফতার করার দাবী।

ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নিহত রুবেলের পিতা আবু জাফর ছিদ্দিকী, মাতা মাসুদা বেগম , মহেশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) সালেহ আহমদ, সাবেক উপজেলা কমান্ডার আমজাদ হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার ফিরোজ খান, ডেপুটি কমান্ডার ডা. সলিম উল্লাহ খান।

ভুয়া অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও আসামী গ্রেফতারের জোর দাবী: 

সাবেক কমান্ডার সালেহ আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার পুত্রকে হত্যারপর খুনিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি এটা পুলিশের ব্যর্থতা তার জন্য খুনিরা বেপরোয়া আজ। এদের খুটির জোর কোথায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাদের যতই মদদদাতা থাকুক কেন প্রশাসনকে দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারপূর্বক রুবেল পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপর বক্তা সাবেক কমান্ডার আমাজাদ হোসেন বলেন, খুনিরা যদি গ্রেফতার হতো? তাহলে হত্যাকান্ডঘটানোর পর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার দুঃসাহস দেখাতে পারতোনা। আর মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করতেও পারতোনা। তাই দ্রুত এইসব চিহ্নিত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার জন্য মাননীয় এসপি, এএসপি এবং ওসির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার আজ গুটিকয়েক সন্ত্রাসীদের কাছে অসহায়  এটা আপনাদেরও ভাবা উচিত আর তড়িৎ আসামীদের গ্রেফতারে ভূমিকা রাখার। সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ফিরোজ খান বলেন, আসামীরা খুনের মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে অপচেষ্টায় লিপ্ত। তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, এটা অন্যায় থেকে বাঁচতেই মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধ করেছে। তাই এইদেশে কয়েকজন সন্ত্রাসী এহেন জঘন্য নিন্দনীয় কাজ করে পার পাবেনা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, রুবেল হত্যার সঠিক বিচারের স্বার্থে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত পুলিশের তা না হলে পুলিশি কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি কাম্য নয় বলে মনে করেন। মুক্তিযোদ্ধা  সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ডা. সলিম উল্লাহ খানও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাপুত্র রুবেল হত্যারপর আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বেপরোয়া। যেটা আইনের শাসনের সাথে মিল নাই। তিনিও দাবী করেন  দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের।

আসামী গ্রেফতার হয়নি পার হয়েছে রুবেল হত্যার দুইমাস :

মহেশখালীতে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা পুত্র মনোয়ার কায়সার ছিদ্দিকী রুবেল হত্যা মামলার আসামীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও মামলার আলোচিত কোন আসামীই গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ভূমিকা পালন করছেনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদিকে ঘটনার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ছিদ্দিকী আসামীদের হুমকির মুখে পুরো পরিবার নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছে বলে জানান।
জানা যায়, গত ২৪ জুন সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার পূর্ব জাগিরাঘোনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সিরাজ, আলম পাশা, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম, আবু বক্কর, রাশেদ সহ ১৫/১৬ জনের সংঘবদ্ধ সসস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাড়ীতে ঢুকে কুপিয়ে মনোয়ার ছিদ্দিকী রুবেলকে মারাত্মক ভাবে আহত করে। পরের দিন ২৫ জুন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবেল মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ সরওয়ার কায়সার সোহেল বাদী হয়ে গত ২৭ জুন ১৬ জনকে আসামী করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-১৮, জিআর-১১২/২০।

মামলার বাদী সোহেল জানান, ঘটনার পর থেকে মামলা তুলে নিতে আসামীরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগায় পরিবার নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছে। ভাই হত্যার দুই মাস পার হলেও কোন আসামীই গ্রেপ্তার করেনি থানা পুলিশ। এদিকে বার বার মামলা তুলে নিতে হুমকি দিতে থাকে আসামীরা। গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় আসামীরা বাড়ীর সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় মারপিট করে খুন জখম করবে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে বলে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ৬ জুলাই মহেশখালী থানায় সাধারণ ডায়রী দায়ের করেন তিনি। যার ডাইরী নং- ২৪৪।
নিহতের পিতা আবু জাফর ছিদ্দিকী ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এই দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে আমার ছেলেকে হারিয়েছি। এই ঘটনার দুই মাস পরেও মামলার কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। উল্টো সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

রুবেল হত্যায় পুলিশি ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস জানান, হঠাৎ করোনকাল, তার মাঝে আমি আসছি বেশি দিন হয়নি এই থানায়, এরপর তদন্তকর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া আছে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের। মামলা যেহেতু হয়েছে তারা এখন বিচারেরর আওতায় চলে আসছে। দ্রুত চেষ্টা আছে পুলিশের পক্ষ থেকে আসামী  গ্রেফতারের পাশাপাশি বিচারের জন্য প্রতিবেদন দেওয়ার।  রুবেলের খুনিদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।

ভয়েস/জেইউ।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION