রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আর কোনও ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না পায়, সে অঙ্গীকার করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
রবিবার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহের কর্মসূচি চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য—‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ মুক্তিযুদ্ধের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর সুযোগ ছিল না।
তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে এর ইতিহাস নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনার পরিস্থিতিতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল। তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কি যুক্তি কাজ করেছিল, এটি একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার, নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তাই শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই প্যারেডে অংশগ্রহণ করে পুলিশ এবং র্যাবের যেসব কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন, যারা এমন একটি মনোমুগ্ধকর আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এটাই বিএনপির সরকারের সময়ে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।
এর আগে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা, পুলিশ অতিরিক্ত আইজিগণ, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ভয়েস/আআ